স্টাফ রিপোর্টার
উৎসবমুখর পরিবেশে চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক লোকজ মেলা সম্পন্ন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে । গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এই আয়োজনে শেষ দিনেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি হয়। এ সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মেলার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। মেলা উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা যেমন লোকসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান এবং স্টল প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর আগে ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এ মেলার উদ্বোধন করেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী এ সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলায় সাংস্কৃতিক পর্বে উদিচি শিল্পীগোষ্ঠী, সাংস্কৃতিক ফোরাম, অরিন্দম, জাসাস সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাপনী দিনে মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় বাউল শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় জারি-সারি এবং লোকগীতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। নববর্ষ উপলক্ষে জেলায় তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক ও লোকজ মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, ড. মুন্সি আবু সাইফ, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল শামীম, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। মেলার শেষ দিনে দেখা গেছে ভিন্ন আমেজ। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন নারী ও শিশুরা। মাটির গয়না, ঘর সাজানোর তৈজসপত্র আর লোকজ খাবারের দোকানগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল বেশ। মেলার সফল আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রতিবছর এমন আয়োজনের দাবি জানান চুয়াডাঙ্গার সচেতন সমাজ।
পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক লোকজ মেলা সম্পন্ন



