স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রার পারদ। প্রখর রোদ আর বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জনজীবন। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। এই তীব্র গরমে বেড়েছে গরম জনিত রোগের প্রকোপ। হাসপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়া ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে মানুষের সঙ্গী হয়েছে ডাবের পানি ও লেবুর শরবত। জেলা শহরের বিভিন্নস্থানে গড়ে ওঠা ডাব ও শরবতের দোকানগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৪ শতাংশ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে দুপুর ৩ টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৫১ শতাংশে।
জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, তীব্র গরমে এবং রোদ থেকে বাঁচতে মানুষ ছাতা ব্যবহার করছে। কেউবা দুপুরের তপ্ত রোদে একটু বিশ্রাম নিতে আশ্রয় খুঁজছেন যে কোন গাছের ছায়ায়। এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষেরা। এই তীব্র গরমে মানুষ ডাবের পানি ও লেবুর শরবত খাওয়ার জন্য দোকানে ভিড় করছেন। ডাব বিক্রেতা আসাদুল হক বলেন, বর্তমানে ডাবের দাম বেশি হওয়া সত্বেও চাহিদা অনেক। যে পরিমাণ গরম পড়েছে তাতে করে মানুষের ডাব খাওয়া এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। একটি ডাব ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও মানুষ এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডাব কিনছে। ডাব ও শরবত বেশি বিক্রি হচ্ছে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত। এই সময়টা গরমও বেশি পড়ছে যাতে করে ক্রেতার সংখ্যাও বেশি।
নির্মাণ শ্রমিক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সেই সকাল বেলা কাজে এসেছি দুপুরের এই তপ্ত রোদে এখনো কাজ করতে হচ্ছে। সারাদিনে যে পরিমাণ ঘামছি সেই ঘাম গায়ে বসে যাচ্ছে। এত তীব্র গরমে আমাদের জন্য কাজ করা খুবই কষ্টকর। তবে কাজ না করলে তো আর পেটে ভাত জুটবে না। তাই যতই গরম পড়ুক সবকিছু উপেক্ষা করে আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া ও হামের মত রোগে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৭১ জন রোগী এবং হাম আইসোলেশনে রয়েছেন ১৮ জন রোগী। অতিরিক্ত গরমে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তীব্র এ গরম থেকে বাঁচতে বেশি করে খাবার স্যালাইন ও তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
এদিকে তীব্র এ গরমকে কেন্দ্র করে বিনামূল্যে শরবত বিতরণ করে সাড়া ফেলছেন উদ্যোক্তা মাসুদ রানা। চুয়াডাঙ্গা মোহাম্মাদী শপিং কমপ্লেক্সের সামনেই বিনামূল্যে শরবত বিতরণ করছেন ফুড কালেকশনের স্বত্বাধিকারী উদ্যোক্তা মাসুদ রানা। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গাতে বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে সকলকে এক গ্লাস করে শরবত বিনামূল্যে পান করাচ্ছি। সেই সাথে মাত্র ১০ টাকায় আনলিমিটেড শরবত পান করার সুযোগ থাকছে। চুয়াডাঙ্গাতে যে পরিমাণ গরম পড়ে তাতে করে সকলেই যদি এভাবে সাধারণ মানুষের জন্য এগিয়ে আসে তবে মানুষকে অনেকটাই স্বস্তি দেওয়া সম্ভব।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে গরম ও অস্বস্তি অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
এক সপ্তাহের মৃদু তাপপ্রবাহে হাসফাঁস জনজীবন চুয়াডাঙ্গায় বেড়েছে ডায়রিয়া ও হাম আক্রান্ত রোগী



