স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আয়োজনে শহর সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময়ে শীমন্ত টাউন হল ভেঙ্গে ফেলা হলো। কত টাকায় পুরাতন ভবন বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া, নতুন ভবন নির্মাণ হলেও এখনও লাইব্রেরী পূর্ণাঙ্গরুপে চালু করা হয়নি। তাছাড়া, ঠিকাদার ভবনের বিল তুলে নিয়ে গেলেও ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। তবে, ঠিকাদারের সিকিউরিটি মানি দেয়া হয়নি। নতুন পৌর পরিষদ এলে ভবনটি পূর্ণাঙ্গারুপে চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা রেলগেটে ওভারপাস নির্মাণে ধীর গতির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ওভারপাসের কাজ সম্পন্ন’র দাবি করা হয়েছে। রেলওয়ের আন্ডারপাসটি বৃষ্টি হলে ডুবে যায়। তখন যানবাহন চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হয়। এটি পানি জমতে না পারে সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি করা হয়েছে।
সদর হাসপাতাল থেকে গুলশানপাড়া রোডে স্লাবের কারণে পথচারীদের চলাচল করতে ভীষন অসুবিধার সৃষ্টি হয়। এজন্য রাস্তাটি স্লাবের মত উঁচু করে রাস্তা নির্মাণের দাবি করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পোষ্ট অফিসের সামনে ফুলসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যসায়ীরা পথ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে পথচারীদের দূর্ভোগে পড়তে হয়। এজন্য ফল ও ফুলের দোকান পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় সরিয়ে দেয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সাথে স্টেডিয়াম প্রান্তে রেলওয়ের একটি পকেট নির্মাণ করে যাত্রী সাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রস্তাব করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার রেলবাজারের কাঁচাবাজরে পশু জবাইয়ের কারণে দোকানদার ও ক্রেতাদের দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সেজন্য প্রতিদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার যেসব এলাকায় ড্রেনের ওপর স্লাব নেই এবং ড্রেনের ব্যবস্থা নেই সেগুলো অবিলম্বে সংস্কার করা প্রস্তাব করা হয়েছে। আর যেসব এলাকায় ডাস্টবিন নেই সেসব এলাকায় ডাস্টবিন দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার বেলগাছির কুকরোখালি গেট বন্ধ হওয়ায় জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হয়েছে। বেলগাছি থেকে মুন্না মোড় পর্যন্ত ১১০০ ফুট ড্রেন তৈরী প্রস্তাব করা হয়েছে। সাতগাড়িতে ড্রেন হয়েছে, রাস্তা নীচু। ওটি উচু করতে হবে। সাতগাড়ি ব্রীজের গাইড ওয়াল নেই। ছোটখাট দূর্ঘটনা ঘটেই থাকে। এজন্য গাইড ওয়াল দেয়ার প্রস্তাব করছি। প্রতি শনিবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান চালু রাখতে হবে। কেদারগঞ্জ বাজারের দুটি অত্যাধুনিক শেড নির্মাণ হয়েছে। যেটি দীর্ঘ দু’বছরেও সেডটি হয়নি। শেডটি চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। একটি ল্যাট্রিন সংকার করতে হবে। এ বাজারে সরকারি একটি খাস জমি পড়ে আছে। সেখানে মাদকের আখড়া বসে। সেখানকার গাছপালাগুলো কেটে অপসারণ করে প্রাচীর দিয়ে দখলে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অদিদপ্তর পৌরসভাকে টিউওবয়েল দিয়ে থাকে। এটি জনসাধরেেণর জন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। পৌরসভার এক হাজার লাইট পোষ্ট আছে। প্রতিটি পোষ্টে না হলেও একটির পর একটি পোলে লাইট সংযোগের প্রস্তাব করছি।
সভায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নাগরিকরা নাগরিক সুবিধা শতভাগ পান এটি আমি আশা করি। নাগরিক সুবিধা শতভাগ দিতে পারি না। তবে, অর্থনৈতিক হিসাব সঠিকভাবে রাখার চেষ্টা করা হয়। অনেক সেবা দিতে পারি না। তবে চেষ্টা আছে। দীর্ঘদিন যাবত শুনে আসছি পৌরসভায় বরাদ্দ আসবে। কিন্ত বরাদ্দ না আসায় ইচ্ছে থাকলেও সবকিছু করা যায় না। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ এলে পৌরবাসীর যেসকল চাহিদা রয়েছে সবগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় কমিটির সদস্য অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা খাতুন, জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম, সমাজসেবার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আইনাল হক, সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাড. মানিক আকবর , অ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও মফিজুর রহমান, বিএনপি নেত্রী রউফুন নাহার রীনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, মাহমুদুল হক পল্টু, মফিজুর রহমান মনা, সেলিমুল হাবিব সেলিম, ইমামুল হক, ইয়াসির আরাফাত রোকন, হাফিজুর রহমান মুক্ত, সুজন আহমেদ, পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান, টিকাদান সুপারভাইজার আলী হোসেন, এসেসর জাহাঙ্গীর আলম, স্যানিটারী পরিদর্শক নার্গিস জাহান, সোহরাব হোসেন, জুবায়ের আহমেদ ও সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা শহর সমন্বয় কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ওভারপাস নির্মাণে ধীরগতি ও রেলওয়ের আন্ডারপাসে জলাবদ্ধতায় উদ্বেগ



