জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলায় ভুট্টা কাটার মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। চৈত্র মাসের শুরুতে আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভুট্টাক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ফসল কাটতে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হলেও মিলছে না পর্যাপ্ত জনবল—চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার কাশিপুর, আন্দুলবাড়িয়া ও হাসাদাহসহ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ের কারণে অধিকাংশ ভুট্টাগাছ ভেঙে মাটিতে হেলে পড়েছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শ্রমিক দিয়ে ফসল কাটতে হচ্ছে। যেখানে আগে প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিকেই কাজ শেষ করা যেত, সেখানে এখন প্রয়োজন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত।
কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিকের অভাবের পাশাপাশি বাড়তি মজুরি দিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে লাভের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।
কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা করেছি। ঝড়ে সব গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো কাটতে পারছি না।”
কৃষক মিজানুর রহমান জানান, পাঁচ বিঘা জমির ভুট্টা ঝড়ে হেলে পড়েছে। আগে যেখানে ৫-৬ জন শ্রমিকে কাজ হতো, এখন লাগছে দ্বিগুণ শ্রমিক। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “চার বিঘা জমির ভুট্টা পেকে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”
স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো ভুট্টা কাটতে না পারলে ফলন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত শ্রমিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জীবননগরে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ভুট্টাক্ষেত শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক



