স্টাফ রিপোর্টার
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উদযাপন হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নারী দিবসের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এরপর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। সভায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অ.দা.) মো. তাজুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভায় আইরিন রহমান ও সোনিয়া খাতুন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন কালেক্টরেট মসজিদের ইমাম কারী কবির আহমেদ। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নারী বক্তারা বলেন, নারীদেরকে সম্মান দেয়া হচ্ছে এটা আশাব্যঞ্জক। আমরা গর্বিত নারী হয়ে জন্ম নেয়ার জন্য। আমাদের সম্মান দিয়ে জন্ম হয়েছে। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারি। পুরুষরা যেমন স্বাধীনভাবে চলাচল করে আমরাও সেভাবে চলতে পারি।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীর যত জ্ঞানী-গুণি হয়েছে সেখানে নারীদের অবদান আছে। যে শিশু নারীদের ভূমিকা পায়নি, তারা অবদান রাখতে পারে না। মা হিসেবে শিশুর যত্ন বাচ্চাদের মায়ের নজর বেশি থাকে। বেতন পেলে মাকে কিছু কিনে দেয় আগে। আমাদের ধর্মেও মাকে আগে রাখা হয়েছে। যে সন্তান মায়ের সান্নিধ্য পায়নি তারা চরম অভাগা। নারী-পুরুষ কেউ কারোর প্রতিপক্ষ না। একজন আরেক জনের পরিপূরক। জীবকূলের মধ্যে নারী ও পুরুষ রেখেছে। নারীর সহযোগিতায় পুরুষরা বাঁচে এবং পুরুষের সহযোগিতায় নারীরা বেঁচে উঠে। ’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নারীরা আমাদের মায়ের জাত। আমাদের সমাজে পুরুষরা শাসন করে। সন্তানকে ভালোভাবে গড়ে তোলার জন্য নারীদের ভূমিকা আছে। পুরুষদের সহযোগিতা করতে হবে। ১৮৮০ সালে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেছেন। নারীর অগ্রযাত্রায় পতিকৃৎ বেগম রোকেয়া। নারীরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে গেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে এবং নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এলজিইডি’র সহযোগীতায় এক বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি পৌরসভা চত্বর হতে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একইস্থানে শেষ হয়। র্যালী শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা ও র্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার।
উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম আব্দুস সবুর খান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনিছুজ্জামানসহ সকল স্থরের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ। চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ ছাত্রীরা র্যালীতে উপস্থিত থেকে র্যালীটি প্রাণবন্ত করে তোলে।
অপরদিকে আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে “আত্মবিশ্বাস” এর আয়োজনে নারী দিবস পালন করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোছা.শামীমা নাসরিন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও অন্যান্য উপস্থিতিবৃন্দ নারীদের অধিকার আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নারী ক্ষমতায়নের উপর আলোকপাত করেন এবং দেশ ও জাতীয় উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা,সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নারীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা এবং অধিকার ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতে করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন । পরিশেষে, প্রত্যাশা বোর্ডে নারী উদ্যোক্তাদের আগামীর প্রত্যাশা লিখন ও সকলের মাঝে পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়।
জীবননগর অফিস জানায়, ‘আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী অধিকার’এই প্রতিপাদ্যে জীবননগরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালন উপলক্ষে রোববার বেলা ৩ টায় জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো.তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, জীবননগর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যাদব কুমার প্রামাণিক প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারী সমাজ কে বাইরে রেখে একটি দেশ কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না।নারীদের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব না।পরিবার থেকে রাষ্ট্রের সবজায়গায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ করে দিতে হবে। নারীদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে। কন্যা সন্তানকে পুত্র সন্তানের মতই সমান সুযোগ সুবিধা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমাদের সকলের সোচ্চার হতে হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের নারী সদস্য ও সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উথলীতে নানা আয়োজনে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালন হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল ১১ টায় ওয়েব ফাউন্ডেশনের আয়োজনে উথলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে সানমুন শিশু পার্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন ওয়েব ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হান। উথলী ইউনিয়ন কৃষি মোর্চার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রধান প্রকল্প সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ, প্রকল্প সমন্বয়কারী সোহরাওয়ার্দী শুভ, সহকারী উপজেলা সমন্বয়কারী হুমায়ন রশিদ পলাশ, সমৃদ্ধি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য মরিয়ম খাতুন, স্কুল শিক্ষক নিজামুল হক,আরিফুল ইসলাম সহ অনেকে।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দামুড়হুদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১ ঘটিকায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী কমিশনের ( ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত বক্তারা নারী দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রোধ, সম-অধিকার, নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করায় এই দিবসের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম বলেন- আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রতি বছর ৮ মার্চের এ দিনটিতে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে। যা নারীর সামাজিক,অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অর্জনের সন্মান জানানোর এবং লিঙ্গ সমতা ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বেগবান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। নারী দিবসে পুরুষের সহযোগিতা উল্লেখ করে সমাজে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুন্দর তথা ন্যায় ভিত্তিক বিশ্ব গড়ার জন্য উপস্থিত সকলকে উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান। সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা.মশিউর রহমান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার এম ফাহিম ফয়সাল, মৎস্য অফিসার বিল্লাল হোসেন, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজীর), এন সি পি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংসদের প্রতিনিধি সহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
মেহেরপুর অফিস জানায়, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে শোভাযাত্রা করেছে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক ডঃ সৈয়দ এনামুল কবির। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বর থেকে বের হয়ে সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসময় পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাছিমা খাতুন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলামসহ জেলার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, একই প্রতিপাদ্যে মেহেরপুরের গাংনীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকালে গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে পরিষদের সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র্যালি শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা আরশেদ আলী এবং পৌরসভার প্রকৌশলী রাজু আহমেদসহ নারী উদ্যেক্তাগণ। র্যালি ও আলোচনা সভায় উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারী উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন নারীদেরকে সম্মান দেয়া হচ্ছে এটা আশাব্যঞ্জক



