জীবননগর অফিস
সীমান্তবর্তী জীবননগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছে। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এ এলাকায় কিছু অসাধু দালালচক্র বিপুল অর্থের বিনিময়ে মানুষকে ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবননগরের বিপরীতে ভারতের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর মহকুমার চাপড়া ব্লক ও হোগলবাড়িয়া থানা এলাকার করিমপুর, হোগলবাড়িয়া, সিমুলতলা ও দরিয়াপুরসহ কয়েকটি সীমান্তঘেঁষা গ্রাম রয়েছে। এসব সীমান্তপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মিত পারাপারের ঘটনা ঘটে আসছে।
সরেজমিনে গিয়ে বেনীপুর সীমান্ত এলাকায় দিল্লি থেকে ফেরত আসা দুই নারীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ভারতে বসবাসের পর নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবার ভারতে যাওয়ার জন্য তারা কলকাতার দালালদের মাধ্যমে জীবননগরের একটি দালালচক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাদবপুর গ্রামের ছাত্তার নামের এক দালাল তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা নেন। পরে তাদের বেনীপুর মাঠপাড়া গ্রামের ইসরাফিলের বাড়িতে রেখে যান। কিন্তু ভারতে পাঠানোর পরিবর্তে তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় ইসরাফিলের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ছিল। তাদের মধ্যে এক নারীকে ইসরাফিল জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্ত ইসরাফিলকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদবপুর গ্রামের ছাত্তার দুই নারীকে তাদের বাড়িতে রেখে যান। সীমান্তের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তাদের পারাপার সম্ভব হয়নি। টাকার বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, শূন্যরেখা সংলগ্ন বিভিন্ন রুটে নজরদারি জোরদার না করলে মানবপাচারকারী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা কঠিন। তারা দ্রুত দালালচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
জীবননগরে ভারতে পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র, প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ



