জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত ইসলামির নেতা কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় হাসাদাহ বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এতে হাফিজুর রহমান(৪৬) নামের এক জামায়াত কর্মী ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪ জন। এদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত হাফিজুর রহমান সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে ও বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমানের ভাই।
বিএনপির নেতাকর্মীদের আঘাতে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে শনিবার সন্ধ্যায় ৭ টায় প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফিজুর কে যশোরে ও পরে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার ভাই বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানকে গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে তার অবস্থাও আশঙ্কা জনক। নিহত জামায়াত কর্মি হাফিজুর রহমানের লাশ ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বিকালে নামাজে জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। দাফন কাজে হাজারো মানুষ অংশ নেয়। হত্যাকান্ডের ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের ওপর সুটিয়া গ্রামে হামলার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। সেই ঘটনার প্রতিশোধ মূলেই শনিবার সন্ধ্যায় হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদ্রাসার সামনে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়। এতে ১ জন নিহত হয় ৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর মেডিকেলে পাঠানো হয়। আহতরা হলেন, বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪০), জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম (৫০), মাহফুজ (২৫), হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন (৬০)।
জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান অভিযোগ করেন, জামায়াত নির্বাচনের পর থেকেই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার শুরু।
অন্যদিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান দাবি করেন, নিরীহ জামায়াত কর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে বিএনপি কর্মীরা আমাদের চারজনকে রক্তাক্ত জখম করে। জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, মেহেদী হাসানকে মারধরের রেশ ধরেই আজকের সংঘর্ষ। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
এদিকে নিহতের ঘটনায় গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জীবননগর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। মিছিল থেকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় তারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অপরদিকে নিহত হাফিজুরের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সকালে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের পরে জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে মরদেহ নেওয়া হয়। রবিবার বিকেল ৪ টায় সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা- ২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির সফিউল আলম বকুল, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, মরহুমের ভাই আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি জুনায়েদ হোসেন প্রমুখ। উপস্থিত সকলেই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জানাযা শেষে সুটিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় হাফিজুর রহমানকে।



