টানা তিন দিনের দাবদাহ শেষে চুয়াডাঙ্গায় স্বস্তির বৃষ্টিজন জীবনে নেমেছে স্বস্তি, আজ থেকে আবার বাড়তে পারে তাপমাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার
টানা কয়েকদিন দাবদাহে পুড়তে থাকা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য অবশেষে আশীর্বাদ হয়ে এলো বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। গত তিন দিন ধরে চলা মৃদ্যু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের এক পশলা বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়া জনজীবনে নতুন প্রাণের স্পন্দন ফিরেছে। গত কয়েকদিনের অসহ্য গরমের তুলনায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে এসেছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ১২ এপ্রিল জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন ১৩ এপ্রিল তা সামান্য কমে ৩৬.২ ডিগ্রিতে দাঁড়ালেও ১৪ এপ্রিল থেকে আবারও পারদ উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। ঐদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গত ১৫ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যায় তাপপ্রবাহ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল ১৬ এপ্রিল দুপুরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা হ্রাস পায় ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।  দুপুর বারোটায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বেলা ৩টায় ৩১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করে। গত কয়েকদিন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ২৩ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে থাকলেও গতকাল তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশে। উচ্চ আর্দ্রতা ও শীতল বাতাসের কারণে গরমের তীব্রতা বিদায় নিয়ে চারদিকে প্রশান্তি বিরাজ করছে। টানা দাবদাহে চুয়াডাঙ্গার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। বিশেষ করে গত কয়েকদিন দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছিল। গতকাল বৃষ্টির পর শহর ও গ্রামের চিত্র বদলে গেছে।
জেলার ডিঙ্গেদহ এলাকার ভ্যানচালক মিলন হোসেন বলেন, গত তিনদিন ভ্যান চালানো একটু কষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। রাস্তায় খুব একটা যাত্রী পাচ্ছিলাম না। ভ্যানের ভাড়াও ঠিক মতো হয়নি আমাদের। তবে আজ দুপুরের পর বৃষ্টিতে শরীরটা জুড়িয়ে গেল। বৃষ্টির পর এখন ঠান্ডা বাতাস বইছে, শান্তিতে কাজ করতে পারছি। কৃষক মোতালেব হোসেন জানান, তীব্র গরমে ফসলের মাঠ ফেটে যাচ্ছিল। এই বৃষ্টি আমাদের আবাদি জমির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সেচের খরচ কিছুটা হলেও বাঁচবে। বর্তমানে এমনিতেই তেল সংকট এই বৃষ্টিতে আমাদের কিছুদিনের জন্য হলেও জমিতে শেষ লাগবে না। তবে আমরা যারা ইতিমধ্যেই ভুট্টা কেটেছি আমাদের জন্য একটু সমস্যা হয়েছে। ভুট্টা ভিজে গেলে এর পরিপূর্ণ মূল্য আমরা পাবোনা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সেই সাথে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩ মিলি মিটিার । তবে জেলায় অনেক এলাকায় আরো বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামীকাল সকালের দিকে কিছুটা মেঘ থাকবে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে মেঘ কেটে যাবে। এতে তাপমাত্রা আবার ৩-৪ ডিগ্রী বৃদ্ধি পেতে পারে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।