স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বাবা-ছেলের বাগ্বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এতে বাবা নুর ইসলাম (৬৫) ও তার ছেলে সাইদুর রহমান (৩৩)সহ সাতজন আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বসতঘর ও তিনটি মোটরসাইকেল। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চাকুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার দুপুরের পর সেই বিরোধের জেরে বাবা নুর ইসলাম ও ছেলে সাইদুর রহমানের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাইদুরের শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে চারটি মোটরসাইকেলে সাত-আটজন বহিরাগত গ্রামে প্রবেশ করে নুর ইসলামের ওপর চড়াও হয়।
ঘটনার আকস্মিকতায় গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা হামলাকারীদের ধাওয়া করে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে চারজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। দর্শনা থানা পুলিশ তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় কয়েকটি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। এতে নারী-শিশুসহ এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে বাবা-ছেলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে শ্বশুরপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেলে এসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে। স্থানীয়রা তাদের আটক করে মারধর করে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘উভয় পক্ষের কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দামুড়হুদার চাকুলিয়ায় বাবা-ছেলের বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে আহত ৭, ঘরবাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর



