নাব্যতা হারিয়ে কৃষিতে বিপর্যয় জয়রামপুর কাঁঠালতলা-তারিনীপুর খাল পুনঃখননে দাবি

দামুড়হুদা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর কাঁঠালতলা-তারিনীপুর খাল দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গভীরতা ও নাব্যতা হারিয়ে স্থানীয় কৃষকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকদের পাট জাঁক দিতে অতিরিক্ত খরচ করে গভীর নলকূপ থেকে পানি তুলে জমাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রান্তিক কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আগে বর্ষা মৌসুমে খালে স্বাভাবিকভাবে পানি জমে থাকায় পাট জাঁক দেওয়া সহজ ছিল। কিন্তু খালটি ভরাট ও অগভীর হয়ে যাওয়ায় এখন আর পানি ধরে রাখতে পারে না। ফলে কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি উল্টো চিত্র ধারণ করে। তারিনীপুর ও কাদিপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। খালের যথাযথ গভীরতা না থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খালটি মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে গোবিন্দপুর হয়ে কাদিপুর, তারিনীপুর, লোকনাথপুর, ডুগডুগি, জয়রামপুর, কুমারিদাহ, হাউলী ও বাস্তপুর এলাকার অসংখ্য কৃষক এই খালের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, খালটি পুনঃখনন করে প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করা গেলে বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বহু বছরের পুরোনো জলপথের ঐতিহ্যও পুনরুজ্জীবিত হবে। এতে শুধু কৃষকরাই নন, পুরো এলাকার অর্থনীতিও ইতিবাচকভাবে উপকৃত হবে।
সব মিলিয়ে, জয়রামপুর কাঁঠালতলা-তারিনীপুর খালের পুনঃখনন ও সংস্কার এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এ অঞ্চলের গরিব ও প্রান্তিক কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।