আলমডাঙ্গার সাহেবপুরে তিন সন্তানের জননীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

হাটবোয়ালিয়া প্রতিনিধি
আলমডাঙ্গা উপজেলার সাহেবপুর মাঝের পাড়ায় কুটিলা খাতুন (৩৮) নামের এক নারীর গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত কুটিলা খাতুন সাহেবপুর গ্রামের মৃত বাদশা মণ্ডলের মেয়ে। তার বিয়ে হয় একই উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের আক্কাস মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলীর সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামী হাসমত আলী শ্বশুরবাড়ি সাহেবপুরে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেখানেই সংসার করে আসছিলেন।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুটিলা খাতুন বেশ কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত ছিলেন বলে স্বজনদের দাবি। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছিল।
নিহতের মা ভাদিরন খাতুন জানান, মঙ্গলবার ভোরে কুটিলা ঘর থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি প্রতিদিনের মতো সকালের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাকে ঘরে বা আশপাশে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি আমগাছে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ নিচে নামানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, কুটিলা খাতুন শান্ত স্বভাবের ও সংসারী নারী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভোগার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তারা ধারণা করছেন। তবে আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়ীতে পৌঁছায়। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় গ্রাম্য কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা শোকাহত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের মাঝে শোক ও বিষাদের আবহ বিরাজ করছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।