স্টাফ রিপোর্টার
দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামে ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে রিপন (৪৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আহত রিপন ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মান্নানের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির সক্রিয় কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতার শেষে মসজিদে প্রবেশের সময় ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিপনের স্ত্রী লাভলী খাতুন বলেন, আজ আমার স্বামীকে একা পেয়ে খাইরুল, হাসেমসহ কয়েকজন কুপিয়েছে। আমার স্বামী বিএনপি’র রাজনীতি করে এতেই রাগ ওদের। বিগত আওয়ামী সরকার যতদিন ক্ষমতায় ছিল ১৭টা কেস দিয়েছে আমার স্বামীর নামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, হাসেম ও খায়রুলের সাথে রিপনের মধ্যে পূর্বে বাগবিতণ্ডা হয়। এ বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নারুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা দর্শনা থানা ঘেরাও করে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের রিপনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ওই গ্রামের খাইরুল ও হাসেমের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, রিপন নামে একজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
দর্শনায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম নেতা কর্মীদের বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও



