স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সেপ্টেম্বর মাস শুরু হতেই জেলা জুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে হাসপাতালটিতে। গত দুই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশিরভাগই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালে নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। হাসপাতালের নারী ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মাত্র ৩টি বেড নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ জন রোগী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই কেবল এ ওয়ার্ডে ১৯ জন নারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সীমিত আসন ও স্থান সংকটের মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের বেগ পেতে হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে হাসপাতালের পুরুষ ডেঙ্গু ওয়ার্ডে। ৬টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৭ জন ডেঙ্গু রোগী। এ ওয়ার্ডে চলতি মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১৮ জন পুরুষ। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলেও সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সাইদুর রহমান নামে এক ডেঙ্গু রোগী জানান, আমি গত সাত দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছি এবং চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখানকার চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত দেখভাল পেয়ে আমি এখন অনেকটাই সুস্থ।। আশা করছি আজকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাব।
আরেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শফিকুল বলেন, ঢাকা থেকে আমি ডেঙ্গু আক্রান্ত হই। পরে ডেঙ্গু জ্বর চলাকালীন আমি গ্রামে চলে আসি। এখানে আসার পরে অবস্থা আরো খারাপ হয় তখন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। এখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন আমি মোটামুটি সুস্থ। তবে এই ডেঙ্গু জ্বর হওয়াতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একটু ব্যথা অনুভব করছি। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে এখান থেকে ছাড়পত্র পেয়ে যাবো।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, নির্দিষ্ট সময় পরপর কিছু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুর প্রভাব কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তাদের যথাযথ ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, আশা করছি তারা দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। রাতে বা দিনে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। বাসা-বাড়ির আশপাশে, ফুলের টব কিংবা ডাবের খোসায় যেন কোনোভাবেই জমে থাকা পানি না থাকে, তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ও সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।



