আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক কলেজে অবৈধ পন্থায় বাংলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষক-কর্মচারীদের চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা ও সরকারি প্রজ্ঞাপনকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, কলেজের বাংলা বিভাগে ‘আরলিজা খাতুন’ নামের এক নারীকে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  কলেজের কোন শিক্ষক বাংলা বিভাগের এ শিক্ষিকাকে না চিনলেও তাকে কাগজে কলমে তাকে ২০১১ সালে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এছাড়াও এক মাস আগে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে বড় ধরনের ঘাপলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অডিট রিপোর্টে অধ্যক্ষ আবু নাসির কাছে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৬ লাখ টাকা পাবে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিধি মোতাবেক কোনো প্রকার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি বা স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুনকে যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কলেজের শিক্ষক হাজিরা খাতা কিংবা ব্যানবেইজের  নথিপত্রে আরলিজা খাতুন নামে কোনো শিক্ষকের অস্তিত্বই ইতিপূর্বে ছিল না। এমনকি কলেজের কর্মরত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীও আরলিজা খাতুন নামে কাউকে চেনেন না বা কখনো দেখেননি বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, এনটিআরসিএ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ছাড়া কোনো বেসরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। অথচ নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসান মিলে নিয়োগের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলা বিভাগে আরলিজা খাতুনের এই অস্তিত্বহীন ও অবৈধ নিয়োগের বিপরীতে পর্দার আড়ালে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা ও স্বজনপ্রীতির ওপর ভিত্তি করে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে, শূন্যপদের তথ্য গোপন করে এবং রেজুলেশন ও শিক্ষক-কর্মচারীগণের স্বাক্ষর জালিয়াতি করার মতো গুরুতর অপরাধের আশ্রয় নিয়ে এই ভুয়া নিয়োগকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এইসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তিনি সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে দাবি করলেও নিয়োগ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র, শিক্ষক হাজিরার প্রমাণ বা এনটিআরসিএ-এর অনুমোদন দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কলেজের শিক্ষক হুমায়ন আহমেদ, মাসুদ রানা, আবু জাফর, আসাদুল হক, জিয়াউর রহমান, মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে ৯/১০ শিক্ষক কলেজের ঘটনা জানাতে জেলা প্রশাসকের কাছে যান। তারা অবৈধ পন্থায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির ও  গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফকে দায়ি করেন। জেলা প্রশাসক তাদেরকে তার মাধ্যমে স্বারকলিপি প্রদানের পরমর্শ দেন বলে শিক্ষকরা জানায়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।