আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্ব থেকে শফিউল আলম বকুলের অব্যাহতির গুঞ্জন

খন্দকার শাহ আলম মন্টু, আলমডাঙ্গা
আলমডাঙ্গা উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিউল আলম বকুলকে উপজেলা আমিরের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জেলা বা কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।
দলীয় সূত্রের দাবি, শফিউল আলম বকুল আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নীতিমালায় নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত পুরুষ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ওই নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, এটি কোনো ব্যক্তিগত, শাস্তিমূলক বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। বরং দলীয় গঠনতন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই নীতিমালার আওতায় দেশের আরও কয়েকজন সাংগঠনিক দায়িত্বশীল নেতার ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, ভবিষ্যতে শফিউল আলম বকুল যদি সংশ্লিষ্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন এবং দলীয় গঠনতন্ত্রে বর্ণিত শর্ত পূরণ করেন, তাহলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে দলীয় নীতিমালার বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার কারণে এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তবে শফিউল আলম বকুলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও অব্যাহতির কারণ ব্যাখ্যা করে কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক ও দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামী ১৬ জুলাই আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির বা ভারপ্রাপ্ত সভাপতির নাম ঘোষণা করা হতে পারে। পরবর্তীতে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রোকনদের ভোটের মাধ্যমে উপজেলা আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব তথ্যেরও এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিষয়টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কোনো সরকারি আইন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বা রাষ্ট্রের চাকরিবিধির বিষয় নয়; বরং দলটির নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নীতিমালার আলোকে গৃহীত একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।