মাদক সেবনের নিরাপদ আস্তানা, চুরি হয়ে গেছে ভবনের সব জানালা-দরজা চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড়ে ওজোপাডিকোর পরিত্যক্ত আবাসিক এলাকায় নির্মাণ হতে যাচ্ছে সোলার প্লান্ট

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের একাডেমি মোড়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন এলাকায় নির্মিত হতে যাচ্ছে ৮০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ সোলার প্লান্ট। শহরের একাডেমি মোড় সংলগ্ন ৫ বিঘা জমির ওপর এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ভবনের কোন জানালা-দরজা অবশিষ্ট নেই। সব চুরি হয়ে গেছে। ওজোপাডিকোর এই পরিত্যাক্ত ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে, অন্যদিকে অবসান ঘটবে দীর্ঘদিনের এক সামাজিক সমস্যার।  সোলার প্লান্ট নির্মাণের প্রাথমিক কাজ হিসাবে পুরো এলাকাটি প্রাচীর দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।  
আবাসিক এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওজোপাডিকোর এই বিশাল জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। ঠিকমতো সীমানা প্রাচীর না থাকায় ঝোপঝাড়ে ঘেরা এই এলাকার পরিত্যক্ত ভবনগুলো পরিণত হয়েছিল মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আখড়ায়। পরিত্যাক্ত এ আবাসিক এলাকাটিতে ৪টি আবাসিক ভবন রয়েছে। যার সবগুলো দোতলা। দীর্ঘদিন ধরে ভবনগুলো পড়ে থাকায় প্রতিটি বিল্ডিয়ের জানালা, দরজাসহ অন্যান্য মালামাল চুরি হয়ে গেছে। এমকটি ছাদ ভেঙ্গে এর রডগুলো চোরেরা খুলে নিয়ে গেছে।  প্রতিটি ভবনের মধ্যেই মাদকের প্যাকেট, বোতল এবং মাদক গ্রহণের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখতে পাওয়া যায়। মাদক গ্রহণের এরকম নিরাপদ স্থান থাকায় মাদকাসক্তরা নানান রকম অপরাধ ঘটিয়ে থাকে। সম্প্রতি এ ভবন থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে।  ফলে একাডেমি মোড় ও এর আশেপাশের সাধারণ মানুষেরা এতদিন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
অবশেষে সেই কলঙ্ক মুছে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এলাকাটি। সোলার প্লান্টের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পুরো জায়গাটি সুরক্ষিত করতে ইতোমধ্যেই সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রাচীর নির্মাণের কাজ শেষ হলেই পরিত্যক্ত ভবনগুলো সম্পূর্ণ অপসারণ করে মূল সোলার প্লান্ট স্থাপনের মূল কাজ শুরু হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাপ্পি হোসেন জানান, ওজোপাডিকোর পরিত্যক্ত এই ১.৬৯ একর জমির প্রাচীর নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ পেয়েছেন সাইফুল হোসেন জোয়ার্দার। সোলার প্লান্টের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজটি গত ২৫ জুন থেকে শুরু করা হয়েছে। এই প্রাচীর নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করে মূল প্লান্টের জন্য জায়গাটি প্রস্তুত করা হবে। চুয়াডাঙ্গার মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এই প্রকল্পকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এই বৃহৎ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে ওজোপাডিকোর ৫ বিঘা জমির ওপর যে পরিত্যক্ত ভবনগুলো রয়েছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে। সেখানে ৮০০ কিলোওয়াট বিদ্যুতের সোলার প্লান্ট তৈরি করা হলে তা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চুয়াডাঙ্গার মানুষকে এখান থেকেই সাপ্লাই দেওয়া হবে। এটি চালু হলে স্থানীয় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন একটি পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টের খবরে চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিত্যক্ত এলাকাটি নিয়ে তারা আতঙ্কে ছিলেন। এখন সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের আস্তানা চিরতরে বন্ধ হচ্ছে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দ্রুত এই সোলার প্লান্টের কাজ সমাপ্ত করে চুয়াডাঙ্গা গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে এমনটি আশা স্থানীয়দের।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।