স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা অডিটোরিয়ামে বাজেট পেশ করেন পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। সর্বমোট ৮৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৫২২ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়।
বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে সর্বমোট আয় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। এ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ কোটি ৯২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। রাজস্ব খাতে বাজেট উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে ৩১ লাখ টাকা। রাজস্ব হতে সম্ভাব্য আদায় দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ১০ লক্ষ ৪২ হাজার ৫৪ টাকা। এরমধ্যে পৌরকর হতে সম্ভাব্য আদায় দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা এবং পৌরকর হতে সম্ভাব্য আদায় বকেয়া দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। ট্রেড লাইসেন্স হতে সম্ভাব্য আদায় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭৫ হাজার টাকা এবং ট্রেড লাইসেন্স হতে বকেয়া আদায় দেখানো হয়েছে ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। পৌরসভার অন্যান্য উৎস হতে সম্ভাব্য আদায় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৩৮ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৪ টাকা।
অপরদিকে উন্নয়ন খাতে আয় ও ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬৫ কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার ৯০৫ টাকা। উন্নয়ন খাতে সম্বাব্য আয়ের খাত ধরা হয়েছে উন্নয়ন এডিপি, উন্নয়ন এডিপি বিশেষ, জলবায় প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, বিএমডি এফ উন্নয়ন প্রকল্প, আরইউটিডিপি, কোভিড-১৯ প্রকল্প।
পৌরসভার ২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট ও ২৬-২৭ অর্থ বছরের
প্রস্তাবিত বাজেট এবং পৌরসভার উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, পৌরসভায় ইতোমধ্যে ১২টি ডাস্টবিনের তৈরীর টেন্ডার সম্পূর্ণ হয়েছে। গত বছর পৌরসভার যা বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছিল আমরা সে অনুযায়ী বাজেট পাইনি। এ বছর যদি সম্ভাব্য প্রস্তাবিত বাজেট পাই তাহলে অবশ্যই পৌরসভার উন্নয়ন সম্ভব। রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে ইতোমধ্যেই আমরা কাজ শুরু করেছি। পৌরবাসী সকলের সহায়তা পেলে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পৌরসভার উন্নয়ন করতে হবে।
সভায় টি এল সি সির সদস্যরা বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনে থানার সামনে রাস্তায় একটি ডিভাইডার তৈরি করা প্রয়োজন। জনমানুষের কথা চিন্তা করে পৌর এলাকার কোর্ট মোড়ে কয়েকটি পাবলিক টয়লেট তৈরি করার প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। সেই সাথে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দেশ ক্লিনিক ও নিউ মদিনা ক্লিনিক এর সামনে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন টি এল সি সি সদস্যরা।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান বলেন, চুয়াডাঙ্গা বাস টার্মিনালে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন, পাবলিক টয়লেট ও বাউন্ডারি নির্মাণ করা হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক পল্টু, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল , স্যানিটারী ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, সোহরাব হোসেন, শহর সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সদস্য সিরাজুল ইসলাম মনি, শফিকুল ইসলাম পিটু, প্রকৌশলী (অব.) ইনামুল হক , নুর আব্বাস, রউফুন নাহার রীনা , মফিজুর রহমান, হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক, সাংবাদিক মাহফুজ মামুনসহ টিএলসিসি কমিটির সদস্যবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ৮৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন রাজস্ব হতে সম্ভাব্য আদায় দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ১০ লাখ



