চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমি মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কের পাশে বাস-ট্রাকের অবৈধ পার্কিং, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা শহরের ব্যস্ততম পৌরসভা মোড় থেকে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত সড়কের পাশে বাস-ট্রাকের অবৈধ পার্কিং এখন নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এতে হাজারো পথচারী ও ব্যবসায়ীরা চরম দূর্ভোগের মুখে পড়েছেন। মূল সড়কের দুই পাশ দখল করে বাস ও ট্রাক পার্কিং করে রাখায় সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল। এছাড়াও ফিডার রাস্তা থেকে প্রধান সড়কের মুখে যানবাহন রেখে দেওয়ায় প্রায়ই ছোট খাটো দূর্ঘটনার সন্মুখীন হন পথচারীরা। বিষয়টি গত ২১ জুন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা মোড় থেকে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় বাস, মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। অনেক সময় চালক ও শ্রমিকেরা রাস্তার ওপরেই গাড়ি ধুয়ে পরিষ্কার করেন এবং দীর্ঘক্ষণ পার্কিং করে রাখেন। যেসব গাড়ির টিপ বা ভাড়া থাকে না, তারা দিনের পর দিন রাস্তার উপর গাড়ি রেখে দেয়। এমনিতেই সড়কটি তুলনামূলকভাবে সরু, তার ওপর দুই পাশে এভাবে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করার কারণে রাস্তার অর্ধেকেরও বেশি অংশ সার্বক্ষণিক বন্ধ থাকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন এখানে বাস-ট্রাক টার্মিনাল বানিয়ে ফেলা হয়েছে। একাডেমী মোড় এলাকাটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল এমনকি সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলার মতো জায়গাও থাকছে না।
ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যস্ততম এই মোড়ে সারাদিন বাস-ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। একটা বড় গাড়ি ঢুকলে অন্য পাশ থেকে আসা গাড়িগুলো আর পার হতে পারে না। আমরা যখন রাস্তা পার হতে যাই তখন অপর পাশ দেখতে পারিনা, এই অবৈধ পার্কিং করার কারণে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখানে এখন নিত্যদিনের ব্যাপার।
ইজিবাইক চালক সলিল মোল্লা জানান, একাডেমী মোড় পার হতে আগে যেখানে দুই মিনিট লাগত, এখন সেখানে যানজটের কারণে পার হতে সময় বেশি লাগে। রাস্তার ওপর বড় ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখলে আমাদের যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না। ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই রাস্তার পাশে রাখা হচ্ছে বাস ট্রাক।
দোকান কর্মচারী পারভেজ বলেন, ফিডার রাস্তা থেকে প্রধান সড়কের মুখে পেশাদার গাড়ি চালকরা যানবাহন রেখে দেন। এ কারনে ফিডার রাস্তা থেকে প্রধান সড়কে কোন যানবাহন উঠতে গেলে কিছু দেখা যায় না। এ কারনে মাঝে মাঝে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে।  
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করা না হলে একাডেমী মোড়ের এই যানজট পরিস্থিতি অচিরেই স্থায়ী রূপ নেবে। তারা এই বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষ এবং জেলা ট্রাফিক পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। এদিকে বেশিভাগ বাস-ট্রাক মালিকের নিজস্ব গাড়ি রাখার গ্যারেজ নেই। আর এ কারনে তাদের গাড়িগুলো রাস্তার উপর রেখে দিয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ অনেকের।
গত ২১ জুন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অবৈধ গাড়ি পাকিং নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি দেখার জন্য ট্রাফিং পুলিশ ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।  
চুয়াডাঙ্গা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টি আই) এডমিন আমিরুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়ে আমরা প্রায়ই পদক্ষেপ গ্রহণ করি তবে যখনই আমরা ওখান থেকে চলে যায় পরবর্তীতে আবার তারা অবৈধভাবে পার্কিং করে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য চালকদের সচেতনতা এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তারা রাস্তার পাশে এভাবে গাড়ি পার্কিং করায় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আমরা খুব দ্রুতই বাস ট্রাক মালিকদের সঙ্গে বসব এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। যদি তাতেও কাজ না হয় তবে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।