বর্তমানে জেলায় সার সংকট নেই, ফুয়েল কার্ডের ন্যায় কৃষক পর্যায়ে সার কার্ড দেওয়া হবে : চুয়াডাঙ্গায় জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার


চুয়াডাঙ্গায় জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| গতকাল বুধবার বেলা ৩ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়| সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| সভার শুরুতে জেলায় চাহিদা মতো সার সরবরাহ ও সার ডিলারদের সিন্ডিকেট বন্ধ এবং সার নীতিমালা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়|
সভায় জানানো হয়, চলতি মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন এবং বর্তমানে মজুদ রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৫ মেট্রিক টন| টিএসপি সারের বরাদ্দ ছিল ৮৬৩ মেট্রিক টন এবং বর্তমানে মজুদ রয়েছে ২১১ মেট্রিক টন, এমওপি সারের বরাদ্দ ছিল ৮১৫ মেট্রিক টন এবং বর্তমানে মজুদ রয়েছে ১ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন এবং ডিএপি সারের বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন এবং বর্তমানে মজুদ রয়েছে ৩৬১ মেট্রিক টন|

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে বর্তমানে জেলায় কোন সার সংকট নেই তবুও কিছু কিছু সার ডিলার পয়েন্টে কৃষকরা সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন| তারই পরিপ্রেক্ষিতে জেলায় ফুয়েল কার্ডের ন্যায় কৃষক পর্যায়ে সারকার্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে| খুব শীঘ্রই সেটি বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক|
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষিপ্রধান জেলা| এ জেলার কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের ¯^ার্থ রক্ষায় সার ও বীজের সঠিক সরবরাহ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে সার বা বীজ বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে| এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে| প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সঠিক পরিমাণের সার বিপণনে প্রত্যেকটি কৃষককে সার কার্ডের আওতায় আনতে হবে| বিগত দিনগুলোতে আমরা যেভাবে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করেছি ঠিক সেভাবেই কৃষকদেরকে সারকার্ড দেওয়া হবে|
এ সময় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক ¯^পন বলেন, যে সকল ইউনিয়নগুলোতে সারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত সার থেকে যায় তা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে সরবরাহ করা গেলে কৃষক পর্যায়ে সুবিধা হতো| তবে সেক্ষেত্রে একটু সমস্যাও রয়েছে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সার এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে নিতে গেলে স্থানীয়রা সেটি আটক করেন|
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ডিপো থেকে সার আসতে রাত হয়ে যায় এবং তখন সার লোড আনলোডে সমস্যা সৃষ্টি হয়| রাতে সার আনলোড করা অনেক ঝুঁকি থাকে স্থানীয়রা অনেকে মনে করেন এখানে চোরাই কোন কাজ হচ্ছে|
তারই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিপো যেহেতু যশোরে তাই সার আসতে রাত হওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না| তবুও যদি কখনো কখনো সারের গাড়ি রাতে আসে আপনারা সেটা দিনে আনলোড করার চেষ্টা করবেন| জেলার সবগুলো সার ডিলার পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা আওতাভুক্ত হতে হবে| অনেক কৃষকই আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তারা ডিলার পয়েন্টে গিয়ে কাংখিত সার পান না| তাই প্রত্যেকটি সার বিপণন ডিলার পয়েন্ট কে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হলো| তাছাড়া এখন থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি অফিসারদের কাজ করে একটি কৃষক ডাটাবেজ ˆতরি করতে হবে| যাতে করে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা ডিজিটালাইজেশনের আওতাভুক্ত হন| তখন সার বিক্রেতারা জানতে পারবেন যে কোন কৃষকের কতটুকু জমি আছে এবং কতটুকু সার তার প্রয়োজন সেই প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষককে সার সরবরাহ করা হবে|
এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, সহকারি কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, জেলা সার ডিলার কমিটির সভাপতি আকবর আলী প্রমুখ|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।