তেল সংকটে ঝিনাইদহে বেড়েছে জনভোগান্তি

ঝিনাইদহ অফিস
ঝিনাইদহে জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে পেট্রোল পাম্প মালিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।
জেলায় তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গুজবের কারণে সৃষ্ট আতঙ্কে বেড়েছে জনভোগান্তি। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালকরা আগের রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। অভিযোগ উঠেছে, গুজব ছড়িয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ, মজুদ এবং একাধিকবার তেল নেওয়ার ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকুপায় ৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জে ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি এবং মহেশপুরে ৩টি স্টেশন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে দুই থেকে তিনবার তেল নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রয়োজন না থাকলেও তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন। এমনকি শহর থেকে তেল কিনে বেশি দামে গ্রামে বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। জেলায় প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ শহরের আরিফ ফিলিং স্টেশনের মালিক মারুফ আহম্মেদ বলেন, বাস্তবে বড় কোনো সংকট নেই, বরং সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু গুজবের কারণে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি ফুয়েল কার্ড চালুর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেন। কালীগঞ্জের এসআর আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক সাহেদ কবীর জানান, আগে যেখানে দৈনিক ৬০০ লিটার তেল বিক্রি হতো, বর্তমানে চাহিদা তিনগুণে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহই সংকটের মূল কারণ।
ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাইকারদের জন্য ফুয়েল কার্ড চালু করে নির্দিষ্ট দিনে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি তেল বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে মিটার যাচাই বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা গুজব প্রতিরোধ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল বলেন, “অনেকে কৃষক সেজে ডিজেল নিচ্ছেন। প্রকৃত কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা জরুরি।”
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জেলায় তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়মিত বাজার তদারকি চলছে। ইতোমধ্যে ১৭টি অভিযানে ১১টি পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংকট মোকাবেলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গুজব দমন, কঠোর মনিটরিং এবং সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃত্রিম এই সংকট দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।