আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কোনো পূর্বঘোষণা বা প্রশাসনিক প্রটোকল ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন মাসুদ পারভেজ রাসেল। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি সরাসরি অফিসগুলোতে উপস্থিত হয়ে সেবার মান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দিনের শুরুতে উপজেলা কৃষি অফিস পরিদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। কৃষকদের অভিযোগ—সার ও বীজ বিতরণে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মাঠপর্যায়ে সেবার ঘাটতি এসব বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, কৃষকরা যেন কোনো ভোগান্তির শিকার না হন এবং সার বীজে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখতে হবে। কৃষি অফিসে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
তিনি নিয়মিত মনিটরিং জোরদার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রারকে অফিস চলাকালে অনুপস্থিত পাওয়া যায়, যা উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, সমিতির নামে অর্থ সংগ্রহ, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতীতে অবৈধ সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করলে অনিয়ম কমবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে এমপি রাসেল বলেন, সরকারের নির্ধারিত রশিদ ছাড়া একটি টাকাও নেওয়া যাবে না। সমিতি বা অন্য কোনো নামে টাকা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালালচক্র বা অনিয়ম থাকলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো প্রটোকল দেখাতে আসিনি, বাস্তব অবস্থা দেখতে এসেছি। জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব। যেখানে অনিয়ম পাব, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে পৌর প্রশাসক পান্না আক্তারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পৌরসেবায় ধীরগতি, টেন্ডার ও ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং পশুহাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগগুলো আলোচনায় উঠে আসে।
তিনি বলেন, পৌর এলাকার প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পশুহাটসহ সব ইজারা উন্মুক্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে দিতে হবে। কোনো সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিস্বার্থের সুযোগ থাকবে না। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন। এ আকস্মিক পরিদর্শন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত এ ধরনের হঠাৎ পরিদর্শন হলে সরকারি দপ্তরে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার হবে। সব মিলিয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আলমডাঙ্গার বিভিন্ন দপ্তর আকস্মিক পরিদর্শন করলেন এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল



