গাংনীতে রমজানকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি

মেহেরপুর অফিস
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই মেহেরপুরের গাংনীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে মুরগি, ফল ও খেজুরের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে বাজার দর স্থীতিশীল রাখতে গতকাল বুধবার ব্যবসায়িদের নিয়ে বৈঠক করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
সরজমিনে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই প্রতি কেজি মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। মেহেরপুর জেলার স্থানীয় খামারগুলোতে পর্যাপ্ত মুরগি না থাকায় জেলার বাহির থেকে বেশি দামে মুরগি কিনে আনতে হচ্ছে। এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বাজারে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা এবং বয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১৫ টাকায়। গত এক সপ্তাহ ধরে এই বাড়তি দাম কার্যকর রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে গরুর মাংস আগের ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও কিছু পণ্যের দাম চড়া রয়েছে। আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, সিম ৩০ টাকা, শশা ১২০, টমেটো৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা এবং লাউ ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে ফলের  দামও। আঙ্গুর ৪৮০ টাকা কেজি, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কমলা ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা এবং অন্যান্য আমদানিকৃত ফল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিহাদি খেজুর ৩৫০ টাকা, মিজল খেজুর ১৬০০ টাকা, কলমি খেজুর ৯০০ টাকা, মাশরুম খেজুর ৭০০ টাকা এবং আজুয়া খেজুর ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছর যে সাধারণ খেজুর ২০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত, এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা কেজি। রমজান মাস উপলক্ষে ফলের চাহিদা বেড়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় প্রতিটি ফলের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি।
ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ি সেন্টু জানান, গেলবারের তুলনায় এবারে ফলের মুল্য বিশেষ করে খেজুরের দাম কম। অন্যান্য ফলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেটা ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে। ব্যবসায়িদের এ দাবীকে অন্যায্য বলে দাবী করেছেন ক্রেতারা।
ক্রেতা সাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছরই রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রমজান শুরুর ১০ দিন আগেও যে শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ফলের দাম আমাদের সাধ্যের মধ্যে ছিল, এখন প্রতিটি পণ্য কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এটি খুবই কষ্টকর।
এদিকে বাজারদর স্থীতিশীল রাখতে ব্যবসায়িদের নিয়ে বৈঠক করেছেন গাংনী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং ব্যবসায়ি প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। বাজারে ইফতারের পন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করাসহ অহেতুক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করার আহবান জানান। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও হুশিয়ারী দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।