আলমডাঙ্গায় একই সময়ে তিন পান বরজে অগ্নিকাণ্ড, দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামে একই সময়ে তিনটি পান বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বকশিপুর স্কুলপাড়া মাঠ এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বকশিপুর গ্রামের মাতাফের ছেলে আব্দুল হান্নানের মাঠে থাকা দুটি পান বরজ এবং একই এলাকার মৃত আরশিদের ছেলে রুপচানের একটি পান বরজে হঠাৎ আগুন লাগে। তিনটি বরজই বড় আকারের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়।
খবর পেয়ে এলাকাবাসী মসজিদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করেন। পরে স্থানীয়রা মাঠের ডিপ টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হান্নান জানান, আমার দুটি বড় পান বরজ—প্রায় সাড়ে ১৭ কাঠা জমিতে ছিল। একই সময়ে কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করি, সে কারণেও কেউ আগুন দিতে পারে। এর আগেও আমার বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করবো। আমার প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রুপচান বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি আমার বরজে আগুন লেগেছে। তবে কিভাবে আগুন লাগলো বা কারা দিয়েছে—আমি কাউকে দেখিনি। তাই নির্দিষ্ট করে কাউকে সন্দেহও করতে পারছি না।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যক্তি খবির আলী বলেন, এটা রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নয়। আব্দুল হান্নান জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সেক্রেটারি এবং রুপচান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ওয়ার্ড সেক্রেটারি হলেও এটি দলীয় বিরোধের ঘটনা বলে মনে হয় না। পূর্ব শত্রুতার জেরে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
একাধিক সূত্র জানায়, তিনটি বরজ প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। প্রথমে আব্দুল হান্নানের দুটি বরজে আগুন লাগে, পরে রুপচানের বরজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে—অথবা পৃথকভাবে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে—এমন সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ একই মাঠে আরও অনেক কৃষকের পান বরজ রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে তিনটি বড় পান বরজের মধ্যে প্রায় ৬-৭ কাঠা বরজ পুড়ে গেছে এবং এতে আনুমানিক প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।