ইজিবাইক ও পাখি ভ্যানের দৌরাত্মে অতিষ্ট চুয়াডাঙ্গায় সড়কে চলাচলরত হাজারো মানুষ

শহর প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইক ও পাখি ভ্যানের দৌরাত্মে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সড়কে চলাচলরত হাজারো মানুষ। ইজিবাইকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এসকল যানবাহন চলাচল করে। ইজিবাইক চালকরা কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় চলাচল করায় প্রায় ঘটছে ছোট খাট দূর্ঘটনা।
পৌর সভার নিবন্ধন ছাড়াই শত শত ইজিবাইক নির্বিঘ্নে চলাচল করছে শহরের প্রধান সড়ক, বাজার এলাকা ও ব্যস্ত মোড়গুলোতে। এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার কারণে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। ইজি বাইকগুলো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়েও যাত্রী তোলে, কারো কিছু বলারও নেই।
বিশেষ করে হাসপাতাল সড়ক, বড় বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও রেলগেট এলাকায় যানজট নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যানবাহনকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে।
রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই চলাচল করি। অবৈধ ইজিবাইকের কারণে রাস্তায় হাঁটাও দায় হয়ে গেছে। রাস্তার দু’পাশে ইজিবাইক পার্কিং করে রাখায় ফুটপাত প্রায় দখল হয়ে গেছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ পথচারীদের রাস্তায় নেমে হাঁটতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাস ড্রাইভার ইব্রাহিম বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের সড়কগুলো এমনিতেই সরু, তার ওপর অবৈধ ইজিবাইকগুলো রাস্তার দুই পাশে পার্কিং করে রাখায় রাস্তার লেন্থ আরও কমে যাচ্ছে। এতে করে বড় যানবাহন, বিশেষ করে বাস চালাতে আমাদের মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় সামান্য জায়গার অভাবে বাস থামিয়ে রাখতে হয়, ফলে পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। যাত্রীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, আর দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করবে এবং নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সবাই স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবে।
ট্রাক ড্রাইভার আব্দুর সালাম বলেন, প্রতিদিনই আমাকে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে হয়। অনেক ইজিবাইক রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায়, আবার অনেকগুলো সড়কের ধারে ও মোড়ে এমনভাবে পার্কিং করে রাখে যে বড় গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ট্রাক একটি ভারী যান। এটি ঘোরাতে, ব্রেক করতে ও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পর্যাপ্ত জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু সংকীর্ণ সড়কে যখন ইজিবাইক এলোমেলোভাবে চলাচল করে, তখন আমাদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের পাশে ব্যবসা করে আসছি। আগে আমাদের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল, মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে এসে কেনাকাটা করত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে আমাদের ব্যবসা প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইজিবাইকগুলো কোনো নিয়ম-কানুন না মেনে দোকানের একেবারে সামনে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার্কিং করে রাখে। ফলে দোকানের সামনে জায়গা না থাকায় ক্রেতারা থামতে পারে না, অনেক সময় দোকানে ঢোকার পথও বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। জনবল সংকট ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।