স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহনকারী কর্মকর্তাদের (প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অীপসার ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নাঈম উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তালিকাটা করেছে যদি মনে হয় ওমুক নিরপেক্ষ নন, তাহলে তিনি বাদ পড়তে পারেন। একটি ভালো নির্বাচন করতে হলে আপনার ও আমার নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যেনে বুঝে বিষপান করা যাবে না। তাহলে নির্বাচন বিতর্কিত হবে। কোন অভিযোগ পেলে আমরা ফেরিফাই করবো। আপনি মাথায় রাখবেন আপনি একটি সৎকর্মের অংশ হতে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক কর্মের অংশ হতে যাচ্ছেন। এখানে এমন কোন বিষয় না, যেটা আপনার জন্য কঠিন হয়েছে। আপনাদের মনের মধ্যে কোন প্রশ্ন থাকে সেটা জেনে যাবেন। তাহলে দায়িত্ব পালন সহজ হয়। আপনি একজন লিডার। আপনার যে গুণাবলী থাকা দরকার সেটা আপনার থাকতে হবে।
আপনি একটি মতাদর্শ লালন করেন। কোন ভোটার জালভোট দিতে এসেছে, আপনি মনে করছেন ভোট দিচ্ছে দিক। না তা হবে না। কোন ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবে ভোট দিতে চেহারার সাথে না মিলে থাকে চলে যেতে হবে। কথা না শুনলে ফোর্স আছে। আমরা জানি সে সঠিক ভোটার নয়। সে অ্যারেষ্ট হয়ে যাবে। ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ভোটারদের চেহারা মিলিয়ে নিতে হবে। আমরা অধিকাংশই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। চেহারার সাথে না মিললে পরে আসতে বলবেন। গন্ডগোল করলে অ্যারেষ্ট। তার উদ্দেশ্যে খারাপ। নির্বাচন ভন্ডুল করতে এসেছে সে। আমরা জালভোট দিতে এলাউ করবো না, নিজেরা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবো। অনেকেই বলছেন, ভোট গণনায় দেরী হবে। আমি মনে করি দেরি হবে না। প্রতিবেশী দেশের আদানী গ্রুপ বিদ্যুৎ বন্ধ করলেও আমরা ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে রাখবো। ৩৫৪টি কেন্দ্রে চাজির্ং লাইট লাগানো হবে। ৬ ঘন্টা চলতে পারেন সেই চেষ্টা করবেন। ফলাফল প্রকাশের আগে কাউকে বাড়ি যেতে দেবেন না। সবাই ডাকঘরে ফলাফল পাঠিয়ে বিদায় হবেন। পোষ্ট অফিস খোলা থাকবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মশিউর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার সামিউল আলম, জীবননগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল হাসান, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন অফিসার ফাহিম ফয়সাল, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাসুম বিল্লাহ ও সদর সহকারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার রাশেদুল হাসান রিসোর্স পার্সন হিসেবে অংশগ্রহন করেন।
চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত



