দীর্ঘদিন মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি, সেই কারণে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন: মাহমুদ হাসান খান বাবু


স্টাফ রিপোর্টার


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরাই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থীরা নিজ এলাকায় অবস্থান করে সকাল থেকে রাত অবধি গণসংযোগ ও পথসভা করে ভোট চাচ্ছেন। দুই একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলছেন প্রার্থীরা। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপি সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচনে আচরণ বিধি মেনে চলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে অন্য আরেকটি দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলে ইঙ্গিত করেন তিনি। রাজনীতির বাইরে তিনি একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। সম্প্রতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক বিপুল আশরাফের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি’র মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। নিন্মে তার সাক্ষাতকার তুলে ধরা হলো-:
আজকের চুয়াডাঙ্গা ১. আপনার এলাকার ভোটারদের নিয়ে আপনার নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া কি?
মাহমুদ হাসান খান বাবু: আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জন্য আমরা দুইটি ভাগে ভাগ করেছি। একটি হচ্ছে আমাদের জাতীয় প্রতিশ্রুতি, যেটি আমাদের দল থেকে নির্বাচনী মানুষদের সাথে বলা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি পারিবারিক কার্ড, সেই পারিবারিক কার্ডের অধীনে একটি পরিবার যাদের প্রাপ্য তারাই আর্থিক সুবিধা পাবে অথবা ন্যায্য মূল্যে খাবারের যে সামগ্রী সেগুলো পাবে। আরেকটি ছিল আমাদের কৃষি কার্ড, সেই কৃষি কার্ডের ভিত্তিতে যারা কৃষি কাজে নিয়োজিত আছেন, তারা কৃষি উপকরণ যেমন সার, কীটনাশক, বীজ, অন্যান্য বিষয়গুলি খুব সহজেই পাবেন। কেউ যেন কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হয় এটি আমাদের জাতীয় প্রতিশ্রুতি।  আর স্থানীয়ভাবে আমরা চাই আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন যে হাসপাতালগুলো আছে উপজেলা ভিত্তিক সেগুলোর আরো উন্নয়ন ঘটাতে চাই। আমরা একটি মোবাইল হাসপাতাল করতে চাই। যেহেতু চাইলেই আমরা সবগুলো ইউনিয়নকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছাকাছি আনতে পারবো না। এই কারণে মোবাইল হাসপাতালটা প্রত্যেকটা ইউনিয়নে থাকবে। একটা ইউনিয়ন থেকে আরেকটা ইউনিয়নে যাতায়াত করবে। যাতায়াত করে মৌলিক যে চিকিৎসা সেবা সেটা প্রদান করবে সে ব্যবস্থা করা হবে। আমরা শুরু থেকেই বলেছি চুয়াডাঙ্গা-২ আসন কৃষি প্রধান এলাকা এখানে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই। যাতে করে এখানকার কৃষি কাজে যারা নিয়োজিত আছে তাদের যে চিন্তা-ভাবনা তারা আরো বিকাশ লাভ করে। এর বাইরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উন্নয়ন, দুর্নীতি লাঘব করা এইসব বিষয়ে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ২. নির্বাচনী আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি?
মাহমুদ হাসান খান বাবু: আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নির্বাচনের যে আচরণ বিধি সেটা পরিপূর্ণভাবে পালন করা। কারণ দীর্ঘ সময় পর একটি সুন্দর নির্বাচন দেশের মানুষ, জাতি পেতে যাচ্ছে। সে ব্যাপারে আমরা খুব সচেতন আমাদের নেতাকর্মীরা তারাও সচেতন। এটা শুধু আমাদের নেতাকর্মীদের ওপরেই নির্ভর করবে না প্রশাসন নির্বাচন কমিশন এবং আমাদের যারা প্রতিপক্ষ সবাইকেই পালন করতে হবে। সবার প্রতি আমার আবেদন একটি সুন্দর নির্বাচন আমরা চুয়াডাঙ্গা দুইটি আসনে উপহার দিতে চাই এই নির্বাচন যেন কোন কারণে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৩. জুলাই সনদ বিষয়ক ভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি?
মাহমুদ হাসান খান বাবু: জুলাই সনদ নিয়ে যে গণভোট হবে আমরা হ্যাঁ এর পক্ষে। নেতাকর্মী সমর্থকদেরকে বলবো হ্যাঁ হচ্ছে সংস্কারের পক্ষে। এর অন্যতম প্রধান সংস্কার হচ্ছে প্রতি ৫ বছর পর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এর বাইরে আরো সংস্কার আছে যেমন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট। যেটা উচ্চকক্ষ এরকম বিষয় আছে, আমরা যদি মনে করি আর ফ্যাসিস্ট ফিরে আসবে না, আশার রাস্তা বন্ধ করতে হলে আমাদেরকে এই হ্যাঁ পক্ষে ভোট দিতে হবে। আমরা হ্যাঁ পক্ষে ভোট দিব।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৪. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
মাহমুদ হাসান খান বাবু: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা চাই জনগণ যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। আমরা আশা করি রেকর্ড সংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন এর দুটো কারণ। একটা হচ্ছে দীর্ঘদিন মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি অথবা যাননি। এর বাইরে যারা তরুণ প্রজন্ম আছে, যারা নতুন ভোটার হলো, ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি তারা এবার অধীর আগ্রহ আছে ভোট কেন্দ্রে যাবার জন্য। আমরা ধারণা করছি এবার অনেক বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে। আমি আশা করি যাতে এবার একটু সুন্দর নির্বাচন দেখতে পারবে এতে করে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৫. নির্বাচনে জয়লাভ করলে এলাকায় কি কি করতে চান?
মাহমুদ হাসান খান বাবু: আমাদের ভোট সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯২ হাজারের একটু বেশি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবায়ন আমি আমাদের বক্তব্যে বারবার বলছি। আমি ঐ সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা যেমন রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কথা বলছি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নের কথা বলছি, আমরা পারিবারিক কার্ডের কথা বলছি, কৃষি কার্ডের কথা বলছি এগুলা বাস্তবায়নযোগ্য জিনিস। যেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেই প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে এই প্রতিশ্রুতিগুলা বাস্তবায়ন করব এটাই হচ্ছে আমাদের নির্বাচনী আসা।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৬. আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি কি মনে করছেন?

মাহমুদ হাসান খান বাবু: নির্বাচন হবে এটা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই। জনগণ সুন্দর একটা নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো আছে কালকে কি হবে এটা আমি বলতে পারব না। এটি নির্ভর করবে নির্বাচনের প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আচার-আচরণ তাদের বক্তব্যের ওপর। কিছুদিন আগে আমাদের এক প্রতিপক্ষের একজন বক্তব্য দিয়েছেন যে ভোটের আগে লাঠি বাঁশে তেল দিতে হবে। এটা কখনোই সমর্থনযোগ্য বক্তব্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করি। আমরা এ ধরনের বক্তব্য বিশ্বাস করি না। আমরা আশা করি যিনি এসব বক্তব্য দিয়েছেন তিনি ওনার ভুল বুঝতে পারবেন এবং এই বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। আমরা চাই সবাই মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে সেক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
আজকের চুয়াডাঙ্গা: আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
মাহামদু হাসান খান বাবু: দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকাকে ধন্যবাদ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলী জানান, মনোনয়নপত্র  প্রত্যাহারের শেষ দিনে অর্থাৎ ২১ জানুয়ারী চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে এ আসনে ৩ জন প্রার্থী ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে প্রতিন্দন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মনোনীত  ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি ৩টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে জীবননগর উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা সদরের ৪ টি ইউনিয়ন এবং দর্শনা পৌরসভা ও জীবননগর পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু জেলা বিএনপির সভাপতি। তার স্থায়ী ঠিকানা, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া। বর্তমান ঠিকানা, রোড নং-৪৭, গুলশান-২, ঢাকা। তার পিতার নাম সোলেমান খান, মাতা- মাহমুদা খানম ও স্ত্রী নার্গিস আক্তার। ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক মাহমুদ হাসান খান বাবুর জন্ম ৩১ অক্টোবর ১৯৬৬ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সন্মান) পাশ এ রাজনৈতিক নেতা পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া চলাকালীন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত খান মাহমুদ হাসান খান বাবু। সেখান থেকেই রাজনীতির হাতে খড়ি তার। পরে ২০০৩ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন মাহমুদ হাসান খান বাবু। পরবর্তীতে যুবদলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক পদ লাভ করেন তিনি। ২০০৭ সালে চুয়াডাঙ্গাতে বিএনপি’র রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৪ সালে ২৩ নভেম্বর দলের কাউন্সিল অধিবেশনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসাবে দীর্ঘদিন সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন।
এখানে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৪ টি। ২-আসনে মোট ভোটর ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন ও হিজড়া রয়েছে ৪ জন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।