স্টাফ রিপোর্টার
দর্শনা দারুসসুন্নাত সিদ্দীকিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার বিগত ১১ বছরের (২০১৪-২০২৪) আয়-ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ অডিটে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের আলোকে মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক মোঃ আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, অডিট রিপোর্টে বলা হয় ধর্মীয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশবুক, লেজার, আদায় মুড়ি বই এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়মিত সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ ও আংশিক কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করেই নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম বিদ্যমান। পে-রোল শিটে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনমূলক স্বাক্ষর, টাকা গ্রহণকারীর স্বাক্ষর, রেভিনিউ স্ট্যাম্প এবং হিসাবের যোগফলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত ছিল।
২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে মোঃ আরিফুজ্জামান মাদ্রাসার দোকানঘর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ মোট ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে নির্মাণ ও সমন্বয় বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ টাকা। তবে অবশিষ্ট ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকার বিপরীতে কোনো বৈধ বিল-ভাউচার, ব্যাংক জমার প্রমাণ কিংবা গ্রহণযোগ্য হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোঃ আরিফুজ্জামানকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমি এখনো হাতে পাইনি।
অন্যদিকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শফিউদ্দিন বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অডিট আপত্তির বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরসহ সহকারী অধ্যাপক মোঃ আরিফুজ্জামানকে প্রদান করা হয়েছে।
দর্শনা দারুসসুন্নাত সিদ্দীকিয়া মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ



