জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন যুবদল নেতার সঙ্গে এক নারীর কথিত অনৈতিক প্রেম সম্পর্কের অডিও ফাঁসকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় রায়পুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বিশ্বজিৎ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। ব্যাপারটি নিয়ে এলাকায় মুখরোচক গল্পের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (২জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার নার্সারি বাগানে কর্মরত এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে সাদ্দাম হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই মধ্যে ওই নারীর একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে সাদ্দাম হোসেন বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকী দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী নারীর। রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাজার পাড়ায় সাদ্দাম হোসেনর বাড়ি। বাবা রুহুল কুদ্দুস ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর। সাদ্দামের সব ভাইয়েরা জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। সাদ্দাম হোসেন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। সাদ্দাম হোসেন ইউনিয়ন সভাপতি রফিকুলের লোক বলে পরিচিত। রায়পুর বাজার পাড়ায় কামাল হোসেনের বাড়িতে ভুক্তভোগি নারী ভাড়া থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামকে সাথে নিয়ে সাদ্দাম হোসেন ওই নারীর ভাড়ার বাসায় গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ভুক্তভোগী নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান।
৯৯৯-এ কল পেয়ে রায়পুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বিশ্বজি সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত শুক্রবার (২জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত রফিকুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন,সাইফুলসহ কয়েকজন পুলিশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও অভিযুক্তদের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ৯৯৯-এ কল পেয়ে এখানে এসেছি। এ সময় রফিকুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন ও সাইফুলসহ কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান। তারা অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার করেন যা ভিডিওতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বিশ্বজিৎ বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ওই নারীকে কেন বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম, তার ভাই লতিফ, সাদ্দাম, জাহাঙ্গীর, রুবেল, আনিছুর রহমান ও সাইফুল একত্রে আমার ওপর চড়াও হন।
এ ঘটনায় আমি থানায় জিডি করেছি। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার, সার্কেল এএসপি ও থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগেও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এবং আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য মোক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারের সময় রফিকুল ইসলাম পুলিশকে হুমকি দেন। ওই সময় তিনি বলেন, ‘কেন আমার এলাকায়,কার অনুমতিতে আসামি ধরতে গেছেন।’ তখনও পুলিশের সাথে খারাপ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন এসআই বিশ্বজিৎ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কাজে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই লতিফ নিয়মিত হস্তক্ষেপ করেন। তাদের বিরুদ্ধে নিন্মমানের ইট ব্যবহার করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ,মারুফদা বাওড় দখল,আবাসন এলাকার জলাশয়ে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরায় বাধা, জয়দিয়া বাওড়ে গার্ড নিয়োগে প্রভাব খাটানো, জোর করে জমি দখল করে ইটভাটা পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, মেয়েটির সাথে আমার কোন অনৈতিক সম্পর্ক নেই। মেয়েটির বয়স প্রায় ৬০ বছর। তার সাথে অন্য লোকের সম্পর্ক রয়েছে। সে খারাপ চরিত্রের মানুষ। সে মুলত: আমার প্রতিপক্ষদের কুপরামর্শে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। শুনেছি সে চুযাডাঙ্গা কোর্টে আমার নামে ধর্ষণ মামলা করেছে।
অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম রফিকের সাথে মোবাইল ফোনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কোন দোষ নেই। পুলিশই আমার কথা শোনে না। ক্যাম্প চালাতে আমিই সহযোগিতা করে থাকি।


