স্টাফ রিপোর্টার
মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার লাখো মানুষ। ঘন কুয়াশা এবং মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দিনভর বেড়েছে শীতের প্রকোপ। জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। বিশেষ করে যারা নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ আছেন, তাদের দুর্ভোগ ছিলো চরমে। ঘন কুয়াশা সেই সাথে বাতাসের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। এ কারনে জেলা জুড়ে বেড়েছে সর্দিজ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগ। ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসকল শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ১৩০ এরও বেশি রোগী। যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষকে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বেলা বাড়লেও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশা ঝরছে। দিনব্যাপী দেখা নেই সূর্যের। যার কারনে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। গতকাল সারদিন শহর ও গ্রামে রাস্তার ধারে খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে মানুষের উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অসহায় মানুষগুলো সড়কের পাশে খরকুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেয়ার চেষ্টা করছে। সেই সাথে শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে উপচে পড়া ভিড়। তীব্র শীত নিবারনের জন্য মানুষ গরম কাপড়ের খোঁজে ছুটছেন দোকানে। বেশি বিক্রি হচ্ছে শীতের জ্যাকেট, হাতমোজা, পা মোজা ও উলের টুপি। এই তীব্র শীতে জেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্ট এর মতো বিভিন্ন সংগঠনগুলো হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। জনমানুষের শীতের কষ্ট দূরীকরণে এই কম্বল বিতরণ অনন্য ভূমিকা হিসেবে মনে করছেন অনেকেই।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল সোমবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আদ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। এর আগে রবিবার জেলায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দিনমজুর আব্বাস আলী বলেন, সকাল সাড়ে ৬ টার সময় কাজে এসেছি, ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে শরীরে কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। তবুও কিছু করার নেই পেটের দায়ে কাজে আসতে হচ্ছে কাজ না করলে আমাদের অন্ন জুটবে না। সারাদিনই এমন কুয়াশার মধ্যে কাজ করলে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয় আমাদের। তবে কিছু করার নেই যতই ঠান্ডা পড়ুক কাজ করতেই হবে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর সভার মোড়ে ফুটপাতে ভ্রাম্যমান কাপড় ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন বলেন, তীব্র শীত উপেক্ষা করেই রাস্তার পাশে কাপড় বিক্রি করছি। বর্তমানে শীতের কাপড় বেচাকেনা বেশ ভালোই হচ্ছে। তবে যেদিন আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল সেদিন কাপড়ের দোকানে ভিড় ছিল বেশ। এই তীব্র শীতে গরম কাপড়ের চাহিদার রীতিমতো বেশি। বর্তমানে জ্যাকেট, হাতমোজা, পা মোজা, উলের টুপি ও মাফলারের চাহিদা বেশি। শীত বাড়ার সাথে সাথে মানুষের গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে।
কৃষক আফসার আলী বলেন, তীব্র শীতে সকালে উঠে মাঠে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। তবে ফসল ফলাতে হলে চাষীদের এই কষ্টের কথা ভাবলে চলে না। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টার চাষ বেশি। ভুট্টায় সময়মতো সার প্রয়োগ ও সেচ না দিতে পারলে ফলন ভালো হয় না। তাই তীব্র শীত উপেক্ষা করে হলেও মাঠে ফসল ফলানোর জন্য আমাদের ছুটে যেতে হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স তৃষ্ণা আক্তার বলেন, চুয়াডাঙ্গাতে ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে শীতজনিত রোগের সংখ্যা। বর্তমানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৩০ এরও বেশি রোগী অবস্থান করছে। যার মধ্যে অধিকাংশই রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধ। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.২ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সারাদিনই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। কয়েকদিন ঘন কুয়াশাসহ তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার মানুষ হাসপাতলে বেড়েছে ডায়রিয়া-সর্দিজ্বর আক্রান্ত রোগী, সড়কের ধারে আগুন জ্বেলে শীত নিবারণ



