আলমডাঙ্গার মিয়া পাড়ায় শীতসন্ধ্যায় মাটির কাপে মালাই চা আর তিল-পাউরুটির আসর

আলমডাঙ্গা অফিস
হাড়কাঁপানো শীতের সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গরম চা আর সাথে মুখরোচক ‘টা’বাঙালির আড্ডার চিরচেনা এই দৃশ্যকল্পে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে আলমডাঙ্গার গ্রামীণ ফুড ক্যাফে(জিএফসি)।  প্রথাগত বিস্কুট বা চানাচুর নয়, বরং তিল দিয়ে পোড়ানো পাউরুটি, খাঁটি মধু আর দুধের সরের এক অনন্য সংমিশ্রণ নিয়ে এসেছে হামিদুলের এই ক্যাফেটি।
আলমডাঙ্গা শহরের মিয়াপাড়ায় সিঙ্গার শো রুমের ঠিক সামনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসে এই বিশেষ চায়ের আসর। সাধারণ চায়ের দোকানের চেয়ে ভিন্নধর্মী উপায়ে মাটির কাপে পরিবেশন আর স্বাদের কারণে অল্প দিনেই এটি স্থানীয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত শীতের আমেজকে উদযাপন করতেই এই ভিন্নধর্মী খাবারের আয়োজন করেছে জিএফসি। শীতসন্ধ্যার আয়োজনে খাবারের তালিকায় রয়েছে হরেক রকম চা ও কফি। সাধারণ পাউরুটিকে তিল দিয়ে বিশেষভাবে সেঁকে নেওয়া হয়, যা মচমচে আর সুগন্ধি হয়।
স্পেশাল চা-রুটিতে থাকে বিশেষ স্বাদ। পাউরুটির ওপর পুরু করে দেওয়া হয় দুধের সর এবং ওপর থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় প্রাকৃতিক মধু ও সাদা তিল। এছাড়া মসলা চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফ্লেভারের চা পাওয়া যায়। চায়ের মূল্যও থাকে চা প্রেমীদের সাধ্যের মধ্যেই। রেগুলার লাল চা ৮ টাকা, স্পেশাল মালাই চা ৪০ টাকা আর স্বাদ ভেদে পোড়া পাউরুটি পাওয়া যায় ১০-২০ টাকায়।
আড্ডায় আসা সাব্বির নামে এক চা প্রেমী জানান, “শীতের সন্ধ্যায় তিল দেওয়া পাউরুটি আর সর-মধুর কম্বিনেশনটা একদম অনন্য। আলমডাঙ্গায় সচরাচর এমন আয়োজন দেখা যায় না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য এটি এখন আমাদের প্রিয় জায়গা।” গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক আড্ডার এই মেলবন্ধন আলমডাঙ্গার শীতকালীন সন্ধ্যায় এক নতুন সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত অবধি চা প্রেমীদের ভিড় লেগেই থাকে জিএফসির এই ভ্রাম্যমাণ স্টলটিতে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।