চুয়াডাঙ্গায় দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিল করা ১১ জন প্রার্থীর সকলকেই বৈধ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় মনোনয়ন দাখিল করা ১১জন প্রার্থীর সকলকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে রির্টানিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমে চুয়াডাঙ্গা দুটি আসনের সকল প্রার্থীকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় চুয়াডাঙ্গা-১ ও বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, ৭৯ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত জেলা ও দলের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম, এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা এবং এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা ফারুক এহসান।
অপরদিকে ৮০ চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাড.রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও দলের  জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী  নুর হাকিম এবং এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও দলের জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন।
এর আগে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সদস্য মিলিমা বিশ্বাস মিলি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও পরে জমা দেননি। এদিকে বৈধ ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব চুয়াডাঙ্গা ১ ও ২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
প্রার্থী বাছাইকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আজকের এই মনোনয়ন বাছাই পর্বে মোট ১১টি মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন থেকে দুইজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান। তিনি আরোও বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দুইজনের মধ্যে যেকোনো একজনকে অবশ্যই মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন বিধি অনুযায়ী উভয় মনোনয়নপত্রই বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে যদি নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন, তাহলে অপর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ থাকবে।
মনোনয়ন পত্র বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, চার উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রার্থীর প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারীরা উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা শেষে দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা তাদের নিজেদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আমরা যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম, আজ সবার আবেদন বৈধভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট। আসন্ন নির্বাচনে একটি সমান ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল রয়েছে। আমাদের প্রার্থীসহ দলের প্রধান দায়িত্ব হলো-নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকা।
এ সময় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. রুহুল আমিন বলেন, আমরা এই নির্বাচনী কার্যক্রমটি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে নিতে চাই এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট দাবি সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হোক। নির্বাচনের দিন যেন কেউ নতুন করে কোনো প্রকার অনুপ্রেরণা বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পায়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। আর্মি প্রশাসন ও সিভিল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং হারানো আস্থা ও প্রেরণা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে সেদিকেও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান থাকবে আপনারা সবাই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আর জনগণ যাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে, সেই জনপ্রতিনিধি যেন এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আজ আমাদের প্রাথমিক মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমি মনে করি এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গোলযোগ সৃষ্টি হবে না।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনয়ন প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, আমাদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বৈধভাবে ঘোষণা হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। সামনে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আমরা আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।