আজকের চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক:
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালোদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। তাঁরা প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দোয়া–মোনাজাত করেন। শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ছাত্রদলের নেতারা।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির ধারক ও বাহক ছিলেন।
ছাত্রদল সভাপতি, ‘আমরা আজ তাঁর (খালেদা জিয়ার) সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা নিয়েছি, তাঁর সেই আদর্শকে ধারণ করে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের আদর্শকে ধারণ করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সেই সঙ্গে জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে, তাঁদের সেই বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে সমুন্নত রাখব। আমরা আপসহীনভাবে তারেক রহমানের (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) পাশে থাকব।’
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে যে আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে কিংবা যেভাবে একত্র হচ্ছে, আমরা আজকে এখান থেকেও আবারও বলছি, আমরা ওসমান হাদি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করছি। এটা বারবার বলে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কিন্তু আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি, সেই ব্যানারকে ব্যবহার করে কেউ না কেউ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে চাই, আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সক ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করব।’
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যারা প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতি করেছে, অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে জেলে বন্দী রেখেছে, প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে ওনাকে বঞ্চিত করেছে, তাদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বেগম খালেদা জিয়া যে আদর্শ রেখে গেছেন, সে বিষয়ে যদি আমরা ঠিক থাকি, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের প্রশ্নে আমরা সবাই এক হয়ে যাব। তিনি নিজে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি ও ঐক্যের কথা বলে গেছেন। সেই ঐক্য যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, তাহলে আধিপত্যবাদী শক্তির যত ষড়যন্ত্রই থাকুক না কেন আমরা পথ হারাব না।’
খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁকে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।



