দামুড়হুদার হেমায়েতপুরে ফুলকপি ক্ষেতে পচন, দিশেহারা কৃষক

দামুড়হুদা অফিসঃ
চোখভরা স্বপ্ন আর বুকভরা আশা নিয়ে ফুলকপি চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। জমিতে ফুলকপি বড় হতে দেখে ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় দিন গুনছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই স্বপ্নে যেন হঠাৎ করেই নেমে এসেছে অন্ধকার। ফুলকপির ক্ষেতে পচন দেখা দেওয়ায় একের পর এক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল। এতে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের ফুলকপি চাষিরা।
কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের অনেক দিনের পরিশ্রম, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের পেছনে ব্যয় করা অর্থ এখন চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে ফসল বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটানো, ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ফসলই এখন তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেমায়েতপুর গ্রামের ফুলকপি চাষি শরিফুল ইসলামের ফুলকপির জমিতে পচন দেখা দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁর প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ক্ষতিতে তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক ফারুক, পিতা ইসমাইল হাজী, তাঁর প্রায় ৪ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। কিন্তু পচনের কারণে তাঁর জমির ফুলকপি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, একই গ্রামের কৃষক মুকুল শেখ, পিতা হালিম মোল্লা, প্রায় ৩ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। তাঁর জমির ফুলকপিও পচনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাঁর আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তিন কৃষকের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা। ঋণ ও বিনিয়োগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা
ফুলকপি চাষ একটি ব্যয়বহুল কৃষিকাজ। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা পরিষ্কার ও ফসলের পরিচর্যা প্রতিটি ধাপেই কৃষকদের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। অনেক কৃষক ধারদেনা করেও ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই যদি পচন ধরে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। হেমায়েতপুরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি
হেমায়েতপুরের ক্ষতিগ্রস্ত ফুলকপি চাষিরা এখন তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার দিকে। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত পচনের কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।