জীবননগর অফিস
শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামে শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। শীতের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস, গুড় ও পাটালি তৈরির মৌসুম সামনে রেখে খেজুরগাছ পরিচর্যা ও কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গাছিরা। তাঁদেরই একজন খয়েরহুদা গ্রামের গাছি তরিকুল। শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই খেজুরগাছ প্রস্তুতের কাজে নেমে পড়েছেন তরিকুল। কোমরে দড়ি বেঁধে গাছে উঠে বিশেষ কৌশলে গাছের মাথার অংশ পরিষ্কার ও ছেঁটে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তুলছেন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই গাছে গাছে হাঁড়ি বসিয়ে শুরু হবে রস সংগ্রহের কাজ। আর সেই রস থেকেই তৈরি হবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড় ও পাটালি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খয়েরহুদা গ্রামে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। শীত মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় ও পাটালি তৈরির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবছর শীতের শুরুতে খেজুরগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে তৈরি হয় কর্মচাঞ্চল্য। মৌসুমি এ কাজে যুক্ত হয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ পান স্থানীয় গাছিরা।
গাছিদের জন্য খেজুরের রস সংগ্রহ শুধু ঐতিহ্যবাহী পেশাই নয়, জীবিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পেশা থেকে একজন গাছির দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে গাছের সংখ্যা, রসের উৎপাদন, মৌসুমের স্থায়িত্ব ও বাজারদরের ওপর আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে।
গ্রামবাংলার শীতকালীন ঐতিহ্যের সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শীতের সকালে খেজুরের রস আর নতুন গুড়ের স্বাদ নিতে মুখিয়ে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। বিশেষ করে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা-পুলির আয়োজন গ্রামীণ জীবনে শীতের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
স্থানীয়দের মতে, খয়েরহুদা গ্রামের বিপুলসংখ্যক খেজুরগাছ যথাযথভাবে পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এ পেশাকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। পাশাপাশি রস ও গুড় উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় গাছিদের আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
শীতের শুরুতেই খয়েরহুদার খেজুরগাছগুলো ঘিরে গাছিদের এমন ব্যস্ততা যেন জানান দিচ্ছে নতুন মৌসুমের আগমনী বার্তা। আর কিছুদিন পরই গাছে গাছে ঝুলবে রসের হাঁড়ি, শুরু হবে নতুন গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ।
শীতের আগমনী বার্তায় জীবননগরের খয়েরহুদায় খেজুরগাছ কাটায় ব্যস্ত গাছিরা



