সাইদুর রহমান, দামুড়হুদা
একসময় প্রিয়জনের কাছে মনের কথা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে আবেগময় মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। সেই চিঠির প্রতিটি পাতায় মিশে থাকত ভালোবাসা, অপেক্ষা, অভিমান, আনন্দ আর হাজারো না বলা কথা। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই বাড়ির মানুষের মনে জেগে উঠত এক অন্যরকম আনন্দ। কখন আসবে প্রিয়জনের চিঠি—সেই অপেক্ষায় দিন গুনতেন কত মানুষ! কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই চিঠির যুগ যেন হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে।
জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা হাইস্কুলের সামনের পোস্ট অফিসে পড়ে থাকা একটি মরিচা ধরা ডাকবাক্স যেন সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের নীরব সাক্ষী। একসময় যে ডাকবাক্সে জমা হতো প্রিয়জনের হাতে লেখা চিঠি, ভালোবাসার বার্তা, দূরদেশে থাকা স্বজনের খোঁজখবর আর মনের গভীরে জমে থাকা অনুভূতি, আজ সেটিই দাঁড়িয়ে আছে অতীতের স্মৃতি বুকে নিয়ে।
একটা সময় ছিল, চিঠি হাতে পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হতো না। প্রিয় মানুষের চিঠি বুকে জড়িয়ে রাখা, বারবার পড়া, যত্ন করে তুলে রাখা কিংবা উত্তরের অপেক্ষায় দিন পার করা—এসব ছিল জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দূরে থাকা প্রিয়জনের কয়েকটি লাইনই মুহূর্তে মন ভালো করে দিত, আবার কখনো চিঠির প্রতিটি শব্দ চোখ ভিজিয়ে দিত অশ্রুতে।
সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে যোগাযোগের ধরন। হাতে লেখা চিঠির জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, মেসেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরের খবর। কিন্তু সেই দ্রুত যোগাযোগের ভিড়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষা করার মায়া, খামের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা আবেগ আর নিজের হাতে লেখা শব্দের গভীর ভালোবাসা। নতিপোতার এই মরিচা ধরা ডাকবাক্সটি তাই কেবল একটি পুরোনো বস্তু নয়; এটি একটি সময়ের স্মৃতি।
নতিপোতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে ডাকবাক্স



