স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে শিশু রোগীর চাপ। আসন সংখ্যার কয়েকগুন রোগী ভর্তি রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। মাত্র ২২টি অনুমোদিত শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে মোট ৯৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। যার মধ্যে ১৮ জনই মারাত্মক হামে আক্রান্ত। ধারণক্ষমতার চার গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জেলা জুড়ে শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকোপ দেখা দিয়েছে হামের। শয্যা খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে বহু শিশুকে ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধি হওয়ায় একই ওয়ার্ডে হাম আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে অন্য রোগীদের রাখার ফলে সাধারণ শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ৯ মাস বয়সী শিশু আবদুল্লাহ আল তাকরিমের নানি তাসলিমা খাতুন নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করে বলেন, আমার নাতির বয়স মাত্র ৯ মাস। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আছি। তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দাগসহ হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা দেখছেন, কিন্তু ওয়ার্ডে এত বেশি ভিড় যে স্বাভাবিক পরিবেশ পাওয়া মুশকিল। তবুও সুস্থ হওয়ার আশায় এখানেই চিকিৎসা নিচ্ছি। ওয়ার্ডে কর্মরত নার্সরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর কারণে তাদের উপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ পড়ছে। একজন সেবিকাকে এক সাথে অনেক শিশুর ওষুধ, স্যালাইন ও যত্ন নিশ্চিত করতে হচ্ছে, যা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং।
পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে কিছু নির্দিষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। বর্তমানে জেলায় হামের প্রকোপ কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে আমাদের হাসপাতালে। তবে সীমিত জনবল ও শয্যা সংকট সত্ত্বেও আমরা কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দিচ্ছি না। হাম আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে নিয়মিত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আশা করছি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসায় আক্রান্ত শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সময়মতো হামের টিকা দেওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা এবং যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে আসন সংখ্যার কয়েকগুণ রোগী ভর্তি নতুন করে দেখা দিয়েছে হাম আক্রান্ত রোগী



