ফেনসিডিল মামলায় জীবননগরের আশরাফের ১০ বছর কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার

জীবননগরে ৯৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় আশরাফ আলী (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) বিচারক সত্যব্রত শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফ আলী জীবননগর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ার মৃত এলাহী বক্সের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি জীবননগর থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল। ওইদিন দুপুরে জীবননগরের দেহাটি বাজার এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে কাশিপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেনসিডিল নিয়ে অবস্থান করছেন আশরাফ আলী। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে ডিবির এসআই আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কাশিপুরে আশরাফ আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে বাড়ির রান্নাঘরের সামনের উঠানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আশরাফ আলী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন।

এজাহারে বলা হয়, পরে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সামনে আশরাফ আলীর দেখানো অনুযায়ী তার বাড়ির রান্নাঘরের সামনের উঠান থেকে তিনটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। ওই তিন বস্তায় মোট ৯৫০ বোতল ফেনসিডিল ছিল। এর মধ্যে দুটি বস্তায় ৩০০ বোতল করে এবং অপর বস্তায় ৩৫০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৯৫ হাজার মিলিলিটার ফেনসিডিল ছিল। উদ্ধার করা ফেনসিডিলের আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অভিযানের সময় উদ্ধার করা ফেনসিডিলের মধ্য থেকে দুটি বোতল রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে সিলগালা করা হয়। বাকি ৯৪৮ বোতল তিনটি বস্তায় রেখে সেগুলোও সিলগালা করে জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফ আলী দীর্ঘদিন ধরে জীবননগর এলাকার অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনের সহায়তায় ফেনসিডিল বিক্রির কথা জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম আলী তদন্ত শেষে আশরাফ আলীকে অভিযুক্ত করে ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত আশরাফ আলীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।