স্টাফ রিপোর্টার
১২ই ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের একটি নির্বাচনী ইশতেহার ছিল। সেই ইশতেহারে এদেশের সাধারণ জনগণ ব্যাপকভাবে সমর্থন করেছে। শুধু যে যারা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচনের জয়ী করেছে তাদের প্রতি নয় সারা দেশের জনগণের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা আছে। দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির মতো আরও বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল দপ্তরপ্রধানের সাথে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন আরো বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনেক প্রাচীন। প্রাচীন সোমপুর বিহার ও ময়নামতির যেসকল শিলালিপি গুলো আছে সেগুলো দেখলেই এর প্রাচীনতম ইতিহাস বোঝা যায়। আজ থেকে প্রায় হাজার হাজার বছর পূর্বে নারীরা প্রথম কৃষিকাজ শুরু করে। তাই নারীদেরকে অবহেলা নয় তাদের জাগরণে কাজ করছে সরকার। প্রাচীনকাল থেকেই নারীদেরকে দাস-দাসী করে রাখা হয়েছে। সমাজের সব জায়গায় নেতৃত্ব দিয়েছে পুরুষেরা। কিন্তু বর্তমানে নারী জাগরণে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের সকল নারীকেই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে তাদেরকে স্বাবলম্বী করার এক বৃহৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরোও বলেন, এদেশে সারা বিশ্ব থেকে বহু কালজয়ী ব্যক্তিত্বরা ভ্রমণ এসেছেন। তারা বলেছেন এদেশে আসার রাস্তা আছে যাওয়ার রাস্তা নেই। অত্যন্ত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের অপার লীলাভূমি বাংলাদেশ। জাপানে মাত্র ১২ শতাংশ চাষযোগ্য জমি আছে, উত্তর কোরিয়াতে মাত্র ১৪ শতাংশ চাষযোগ্য জমি আছে কিন্তু বাংলাদেশে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৮০ শতাংশ। তবুও আমাদের বাইরের দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে আনতে হয়। আমার দেশের চাষীরা যদি পরিপূর্ণভাবে চাষ করে তাহলে আমরা আমদান নির্ভরশীল দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হব। আমার দেশের দক্ষ শ্রমিকরা বাইরের দেশে গিয়ে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে ৩০ হাজার টাকা বেতন পায়। দেশেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি পরিপূর্ণতা পাবে।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৫-এর সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী বলেন, মাদকাসক্ত একটি অতি ভয়াবহ ব্যাধি। এর সূচনা ঘটে বিড়ি বা সিগারেট থেকে। তাই স্কুল পর্যায়ে থেকেই আমাদের শিশুদেরকে যদি এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক বৈঠকে আলোচনা করা যায় তাহলে অনেকাংশেই আমাদের শিশু কিশোরদেরকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি সমাজে যে সকল অপরাধগুলো নিয়মিত ঘটে চলেছে যেমন নারী নির্যাতন, সেগুলো নির্মূলে সকল দপ্তরকেই এগিয়ে আসতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলাটি মাননীয় সংস্কৃত মন্ত্রী ও আমার আওতায় পড়েছে। নানান কর্মব্যস্ততার কারণে মন্ত্রী মহোদয় হয়তো সবসময় সময় দিতে পারবেন না, তবে আমি মাঝে মাঝেই আসবো। জেলার যে কোন সমস্যা নিরসনে আপনারা আমার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন। যেসব অফিসের কর্মকর্তাদের শূন্যতা পদ আছে, আপনাদের যার যেখানে লোক প্রয়োজন সেগুলো আপনারা লিখে আমাদেরকে জানাবেন। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এবং আমাদের সংরক্ষিত মহিলা এমপি মহোদয়ার মাধ্যমে আমরা যত দ্রুত সম্ভব চুয়াডাঙ্গার মানুষের সেবার জন্য এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার সরকারি সমস্ত অফিসগুলো কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য বিশেষ করে শিক্ষা, মৎস্য এবং হাসপাতালগুলোতে যে ডাক্তারের যে শূন্যতা আছে সেগুলো আমরা পূরণের চেষ্টা করব। অনুগ্রহপূর্বক আপনারা যারা আছেন আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং যে আর যেখানে গ্যাপ আছে, সেই গ্যাপগুলো আমাদের জেলা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত কিছু জানালে আমরা স্থানীয় এমপি এবং সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সেগুলো দ্রুত সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব। আমি আপনাদেরকে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, চুয়াডাঙ্গা জেলার উন্নয়নের জন্য আপনারা সবাই একযোগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে আমরা কাজ করব।
পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি চমৎকার প্রশাসনিক সমন্বয়ে রয়েছে। জেলার যেকোনো সমস্যা নিরসনে আমরা সমন্বিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে পাবলিক প্রসিকিউটর সাহেবের একটি বিষয় আমি জানাতে চাই। স্বল্প সংখ্যক মাদকদ্রব্যপ্রাপ্ত কোন আসামিকে আটক করা হলে অজ্ঞাতনামায় কোন আসামি দেখানো হয় না। যদি বিপুল সংখ্যক মাদক আটক করা হয় তখন অজ্ঞাতনামায় আসামি দেখানো হয়। বর্তমানে জেলা পুলিশ কর্তৃক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণেও চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক হারে আসামিকে আটক করা হচ্ছে এবং সামারি ট্রায়াল এর মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।
এছাড়াও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, ৫৮- বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল রফিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক প্রমুখ।
সভায় বক্তারা চুয়াডাঙ্গা জেলায় সিজিএম কোর্টের বিল্ডিং নেই, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, অডিটোরিয়ামসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন ৬- বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাজমুল হাসান, এনএসআই যুগ্ন পরিচালক সামসুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুকুল কুমার মৈত্র, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, দূনিতী প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধান, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভা শেষে বেলা ২টার দিকে মন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমি কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন।
চুয়াডাঙ্গায় দপ্তরপ্রধানের সাথে মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর



