আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গায় অধিক মুনাফার আশায় চোরাই পথে নিয়ে আসা ৪৪০ বস্তা টিএসপি সারসহ একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকচালক, হেলপার ও সারের মালিকসহ তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সারের মালিক ভাংবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় উপজেলার কয়রাডাঙ্গা এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি সার আটক করে হাঁপানিয়া ক্যাম্প পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাঁপানিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ জুম্মান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল কয়রাডাঙ্গা এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় ভালাইপুর থেকে হাটবোয়ালিয়াগামী একটি ট্রাক দেখে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। ট্রাকটি থামিয়ে ত্রিপল সরিয়ে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার দেখতে পায় পুলিশ। পরে সারের কাগজপত্র যাচাই করে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ট্রাকটি আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে সার ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলাম, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ট্রাকচালক শাকিল হোসেন এবং ট্রাকের হেলপার ইসরাফিল।
হাঁপানিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ জুম্মান খান বলেন, ট্রাকচালক শাকিল হোসেনের কাছ থেকে ৪৪০ বস্তা টিএসপি সারের চালান জব্দ করা হয়েছে। যশোরের নওয়াপাড়ার দিনান ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ট্রাকযোগে সারগুলো চুয়াডাঙ্গার বিএডিসি গুদামের নামে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পুলিশের হাতে আটকের পর বিষয়টি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরকে জানানো হয়। পরে কৃষি কর্মকর্তারা ট্রাকভর্তি সার নিজেদের হেফাজতে নেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনূর আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার পরিবহনের কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সার পরিবহনের দায়ে ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এ সময় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা মুজাইল নাবিলা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উদয় রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও আব্দুর রফিক এবং আলমডাঙ্গা থানার এসআই শাহারিয়ার হোসাইন রুবেলসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভাংবাড়িয়া গ্রামের সার ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও অবৈধভাবে সার মজুত ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর তাঁর গোডাউন থেকে কয়েক দফায় শতাধিক বস্তা সার আটক করেছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। এসব ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর গোডাউনে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কৃষকদের প্রশ্ন, সরকারি গুদামের জন্য বরাদ্দ করা সার কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে একজন ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেল এবং এ ঘটনায় সরবরাহব্যবস্থার কোথায় ত্রুটি রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আলমডাঙ্গায় ট্রাকভর্তি ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার আটক



