স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চত্বরে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫৪ বস্তা সার উধাও হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ বস্তা ডিএপি ও ৭ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। উধাও হওয়া সারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৩৫০ টাকা। এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি অফিস তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরির প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে প্রণোদনার সার নিতে সদর উপজেলা চত্বরে এসে বিষয়টি জানতে পারেন কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, সার নেয়ার জন্য স্বাক্ষর নেয়ার পর জানানো হয়, সার চুরি হয়ে গেছে। তাই তাদের পরদিন এসে সার নিতে বলা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কৃষকেরা।
কৃষকদের কয়েকজন জানান, সকাল থেকেই তারা সার নেয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের স্বাক্ষর নেন। পরে জানানো হয়, সংরক্ষণ করা সার থেকে কিছু বস্তা চুরি হয়ে গেছে। তাই ওই দিন সার দেয়া সম্ভব হবে না। বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্বাক্ষর নেয়ার পর একজন কর্মকর্তা আমাদের জানান, সার চুরি হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩৫০ বস্তা ডিএপি ও এমওপি সার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় আসে। উপজেলা কৃষি অফিসের নিজস্ব কোনো গোডাউন না থাকায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি সেডের নিচে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে এসব সার সংরক্ষণ করা হয়। প্রণোদনার আওতায় পর্যায়ক্রমে সার বিতরণ চলছিল। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে কৃষি কর্মকর্তারা সংরক্ষিত সার দেখতে গিয়ে ৫৪ বস্তা সার কম পান। পরে হিসাব করে দেখা যায়, ৪৭ বস্তা ডিএপি ও ৭ বস্তা এমওপি সার উধাও হয়েছে। সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন অফিস সহকারী মিজানুর রহমান, নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রউফ, নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল আউয়াল এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হক। সার কম পাওয়ার বিষয়টি তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে জানান। ঘটনার পরপরই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, সার চুরি হওয়ার ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সদর থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র বলেন, কৃষি কর্মকর্তা আমাকে ফোনে সার চুরির বিষয়টি জানিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার উধাও



