চুডাঙ্গায় জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ড সংগ্রহ কার্যক্রমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ ভাগ অর্জন

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষকদের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়া ও  সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। গত মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সরকার।  
সভার শুরুতেই সারের মজুদ ও বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় নির্দেশ দেওয়া হয় প্রতিমাসের ৭ তারিখ মধ্যে সার উত্তোলন করতে হবে। কৃষি মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা পূরণে এসব সার পর্যাপ্তভাবে সংরক্ষণ করতে হবে ও সার নীতিমালা অনুযায়ী সার ডিলারদের কাজ করতে হবে। সভায় আলোচনায় উঠে আসে, সার ডিলার একজন হলে এক ইউনিয়নে তখন সার সমন্বয় করে বণ্টনের সুযোগ আছে। একই সাথে অভিযোগ ওঠে সার সুষম বণ্টন হচ্ছে না। ফলে সার নীতিমালা লঙ্ঘন হতে চলেছে। একই পরিবারে দুজন সার ডিলার থাকা যাবে না। বীজ সঠিকভাবে পরিক্ষা নিরিক্ষা ছাড়া কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বীজ প্রত্যায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর আগেই বীজটি যাচাই বাছাই করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে জেলায় ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে টিএসপি ৭৮১ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৭৬  মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন। কৃষকদের কার্ড এর বিষয়ে জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গায় কৃষক কার্ড সংগ্রহ কার্যক্রমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্জন হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা সদর, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকে মোট ২ হাজার ১৬০টি কৃষক কার্ড সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ১৫৭টি কার্ড সংগ্রহ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ১০০টির বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৩ হাজার ১২৯টি। দামুড়হুদায় ৫ হাজার ৫০০টির বিপরীতে ৫ হাজার ৪৫১টি এবং জীবননগরে ১ হাজার ৯০০টির বিপরীতে ১ হাজার ৮০৫টি কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছে।
জেলার মোট লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৬৬০টি হলেও অর্জন হয়েছে ১২ হাজার ৫৫০টি। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১০টি কার্ড কম সংগ্রহ হয়েছে। জেলার ১২ হাজার ৬৬০টি কার্ড যাচাইয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১২ হাজার ৫৫০টি কার্ডের মধ্যে ১১ হাজার ৩২২টির তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষে ২ হাজার ৪২০টি কার্ড অনুমোদিত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৮টি কার্ড অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, আলমডাঙ্গায় ২ হাজার ১৫৬টি কার্ড যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৩টি অনুমোদিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৩৩টি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদরে ২ হাজার ৭৮৪টি কার্ড যাচাই সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪৯টি অনুমোদিত এবং ২ হাজার ২৩৫টি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দামুড়হুদায় ৪ হাজার ৫৮০টি কার্ড যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪৮টি অনুমোদিত এবং ৩ হাজার ৭৩২টি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। জীবননগরে ১ হাজার ৮০২টি কার্ড যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কৃষি আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই কৃষকের প্রয়োজনীয় সার ও মানসম্মত বীজ সময়মতো এবং ন্যায্যমূল্যে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনোভাবেই সার ও বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম নেওয়া, অবৈধ মজুত বা কালোবাজারি করা যাবে না। ডিলার ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সার ও বীজ বিক্রি করতে হবে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের হয়রানি না করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সার ও বীজ বিতরণ করতে হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করেই আমাদের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। সার ও বীজ নিয়ে কোনো অনিয়ম বা সংকট তৈরি হলে প্রশাসন কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করবে। কৃষকের প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।
বিগত বছর আলমডাঙ্গায় নকল ভুট্টার বীজ সরবরাহ করায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ৩৫০ বিঘা জমিতে মোট ৬৭ জন ভুট্টাচাষীর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যেক চাষীকে বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে জানানো হয়। তবে বীজ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ দিতে টালবাহানা করছে বলে জানান আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ। জবাবে জেলা প্রশাসক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) দেবাশীষ কুমার, অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মিঠু চন্দ্র অধিকারী,  সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান,  কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, জেলা সার ডিলার কমিটির সভাপতি আকবর আলী প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।