মেহেরপুর অফিস
মোবাইল গেম ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেরপুরের গাংনীতে রেজোয়ান আল আবির(১২) নামের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় দুই কিশোরকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দেশের স্মার্টফোন থেকে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের নথি থেকে জানাগেছে, গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) কে ১০ বছরের কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নুহু নবীর ছেলে মো. জুনাইদ ইসলাম হামিম (১৪) কে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার বাদী নিহত আবিরের মা রোজিনা খাতুন জানান, তাঁর স্বামী আসাদুজ্জামান মালয়েশিয়া প্রবাসী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার সরিষাডাঙ্গা এলাকায় হলেও তিনি সন্তানকে নিয়ে গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ জুন মোস্তফা আল মুজাহিদ ও জুনাইদ ইসলাম হামিম মিনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ান আল আবিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম খেলার জন্য তারা মালয়েশিয়ায় থাকা আবিরের বাবার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি দ্রুত আবিরের পিতা পরিবার ও পুলিশকে মুঠোফোনে জানায়। অন্যদিকে টাকা না পেয়ে আবিরকে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে হত্যা করে।
ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন, ২০২১ সালের ২৭ জুন রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয় যার নম্বর-২৩।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ঘটনার সময় ভিকটিম ও দন্ডপ্রাপ্তরা শিশু হওয়ায় শিশু আইনের আওতায় আদালত সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম দ্রুত দেশের স্মার্টফোন থেকে অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে আরও বলা হয়েছে, দন্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদন্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন।
মেহেরপুরে আলোচিত শিশু আবির হত্যা মামলায় দুই কিশোরের কারাদন্ড ফ্রি ফায়ার ও পাবজি অপসারণে বিটিআরসিকে নির্দেশ



