চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহনের ২০ জন কর্মীর ডোপ টেস্ট পরীক্ষা, ৫ জনের পজিটিভ মাদকসেবনের প্রমাণ মিললেই চাকরিচ্যুতি ও আইনি ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং স্থানীয় পরিবহন মালিক সমিতির সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গণপরিবহন কর্মীদের ডোপ টেস্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে।  গত ৪ দিনে ২০ জনের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনের ডোপ টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ চিহ্নত হয়েছে।
ডোপ টেস্টে যদি কোনো চালক, সুপারভাইজার বা হেলপারের মাদকসেবনের প্রমাণ মেলে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করাসহ প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যে ৫ জন ড্রাইভার ও হেলপারের ডোপ টেস্ট পজিটিভ চিহ্নিত হয়েছে। এরপর থেকে এসব ড্রাইভাররা পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ গতকাল বুধবার দুপুরে  গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রয়েল এক্সপ্রেস, পূর্বাশা পরিবহন, জে আর পরিবহন, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, দর্শনা ডিলাক্স, গোল্ডেন লাইন, জননী, নদীয়া, সাথী পরিবহন, রেখা পরিবহন, মামুন পরিবহন, শামীম এন্টারপ্রাইজ, নিউ মর্ডাণ পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন ও বিআরটিসিসহ বিভিন্ন দূরপাল্লা ও স্থানীয় বাসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে।
দূরপাল্লার বাসে নির্ধারিত সময়ের পর পর চালক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো চালককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া টানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না। চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরই তাকে যানবাহন চালনোর অনুমতি দেয়া হবে। মাদকাসক্ত, অসুস্থ কিংবা ক্লান্ত অবস্থায় কোনো চালককে ড্রাইভিং সিটে বসতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং ও ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিং পরিহার করে সকল ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
জেলা পুলিশ আরো জানায়, মাদকাসক্ত অবস্থায় যানবাহন চালানো শুধু আইন অমান্য নয় বরং যাত্রীদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলার শামিল। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে নিয়মিত ডোপ টেস্ট ও এ সংক্রান্ত তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ ও পরিবহন মালিক সমিতির উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পরিবহন স্টাফদের ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে। এই পর্যন্ত ২০ জনের ডোপ টেস্ট করানো সম্পন্ন হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান বলেন, সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য  চুয়াডাঙ্গাতে গণপরিবহন শ্রমিকদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। গত ৪ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এ ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি পরিবহনের ২০ জনের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনের পজিটিভ চিহ্নিত হয়েছে। পুলিশ তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে খুঁজতেছে। পর্যায়ক্রমে সব গাড়ির শ্রমিকদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।