বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা – ২০২৬

অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান
দেশব্যাপী চলছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০২৬। এরই অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ চুয়াডাঙ্গার যৌথ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে (সরকারি কলেজের বিপরীতে) ৩০ জুলাই থেকে ০৮ আগস্ট’ ২০২৬ পর্যন্ত বৃক্ষ মেলা চলবে। এ বৃক্ষ মেলা প্রত্যহ ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।
এ বছরের স্লোগান-
“বৃক্ষরোপণে সাজায় দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ”  
বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার মূল উদ্দেশ্য হ’ল বৈশ্বিক বিপর্যয় রোধ, অবাধে বৃক্ষনিধন রোধ, রোপিত বৃক্ষের সুষ্ঠু পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
গাছ আমাদের অকৃত্রিম সবুজ বন্ধু। গাছ আমাদেরকে খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, ঔষধ, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল এবং অক্সিজেনসহ নির্মল পরিবেশ দেয়। এক কথায় দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত বৃক্ষই মানুষের নিকটতম সাথী। এই বৃক্ষ নিয়ে কিছু কথা লেখার আগে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘সেই বৃক্ষ বন্দনা’ কাব্য গ্রন্থের বনানী কবিতার দুটি পঙ্ক্তি উল্লেখ না করলেই নয়। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন-
“অন্ধভূগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান,
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ আদিপ্রাণ।”
এক সময় পৃথিবী ছিল উত্তপ্ত। প্রাণের স্পন্দন ছিল না। ধীরে ধীরে পৃথিবী ঠান্ডা হলে প্রাণের আবির্ভাব ঘটে। পৃথিবীতে আদিপ্রাণ বলতে কবি উদ্ভিদকেই বুঝিয়েছেন।
সন্তান ভূমিষ্টের পর পরই মায়েরা শিশুর মুখে মধু দিতেন। সেই মধুও মৌমাছিরা আহরণ করে ফুল ফল থেকে। এক সময় মানুষ ফল খেয়েই জীবন ধারণ করতো। এখনো অনেক দেশে ফলই প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। ফল পুষ্টির একটি প্রধান উৎস। একজন মানুষের প্রতিদিন ১৩৫ ক্যালরি পুষ্টি প্রয়োজন। আমরা সেখানে ৩৫-৪০ ক্যালরি পুষ্টি পেয়ে থাকি। এক সময়ে আমাদের ধারণা ছিল মাছ-মাংস না খেলে শররী ভাল থাকবে না। আজকের দিনের পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলছেন একজন মানুষ কোন প্রকার মাছ-মাংস গ্রহণ ছাড়াই শুধু সাক সবজি আর ফল-মূল খেয়ে সুস্থ-সবল দেহ নিয়ে আজীবন বাঁচতে পারেন, অনেক ভালভাবে। আরেকটি পরিসংখ্যান বলা হয়ে থাকে এই পৃথিবীতে যত মানুষ না খেয়ে মারা যায় তারচে আনেক বেশি মানুষ মারা যায় অধিক খাদ্য গ্রহনের ফলে।  
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, গাছ লাগানো সাদকায়ে জারিয়া। যে ব্যক্তি বৃক্ষরোপণ  করে মৃত্যুবরণ করেন, বৃক্ষরোপণের সওয়াব ওই ব্যক্তি কেয়ামত পর্যন্ত পেয়ে থাকবে। অতএব, বৃক্ষরোপণ আল্লাহর একটি অন্যতম ইবাদত।  
সেই জন্য বাড়ির আনাচে কানাচে ফলদবৃক্ষ রোপন করে পুষ্টি চাহিদা মেটানোর সাথে সাথে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। বৃক্ষ রোপন কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সকলের একযোগে কাজ করতে হবে। এ সম্পর্কে কবি লিখেছেন-
“লাগাও গাছের চারা
পথে, ঘাটে, মাঠে
আঙ্গিনা ভরিয়ে দাও শ্যামল গাছে
নিজে বাঁচো আর দেশকে বাঁচাও
পরিবেশকে সুরক্ষা করে রাখ।”
এজন্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের অবিলম্বে নিজ নিজ বাড়ির আনাচে কানাচে, স্কুল-কলেজে, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা প্রাঙ্গনের খালি জায়গায়, ছোট বড় রাস্তার পাশে, রেল লাইনের ধারে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ফলদ ও বনজ বৃক্ষরাজি রোপন করতে হবে এবং বৈশ্বিক জলবায়ুর বৈরিতার হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে।
সফল হোক বৃক্ষমেলা’।

অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান
সাবেক অধ্যক্ষ  
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ,

দর্শনা সরকারি কলেজ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।