স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দিবসটি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে সফল ও সার্থকভাবে পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলায় শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা এবং দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনে রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। ৫ আগষ্ট সকালে কয়রাডাঙ্গা ও শংকরচন্দ্র গ্রামে দুই জন শহীদের কবর জিয়ারত এবং পুস্পমাল্য অপর্ণ করা হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় শহীদ হাসান চত্বরে জুলাই স্মতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হবে। সেখানে ফাতেহা পাঠ শেষে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া কামনা করা হবে। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও দুপুরে জেলখানা, হাসপাতাল, শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সুবিধামতন সময়ে বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপসনালয়ে দোয়া প্রার্থনা করা হবে।
অপরদিকে ৫ আগষ্টকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন দেওয়াল ও ফ্লাইওভারে নতুন করে গ্রাফিতি অংকন করা হবে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে বির্তক প্রতিযোগিতা ও প্রামন্য চিত্র প্রদশর্নির ব্যবস্থা করা হবে। ৪ আগষ্ট শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে জাতীয় পতাকাসহ নানান রংয়ের পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত করা হবে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুকুল কুমার মৈত্র আহত জুলাই যোদ্ধাদের সব রকমের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ তাদের বিভিন্ন জমিতে মার্কেট নির্মাণ করবে। সেখানে জুলাই যোদ্ধারা দোকান নিতে চাইলে তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরে সরকারীভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, বাংলাদেশে কোন ব্যাক্তি নাই যে, জুলাই জানেনা। । গণভোট আর জুলাই এক জিনিস না। তার ভিতরে কি আছে তারা কিন্তু জানতো না। জুলাই সনদ সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস, জুলাই আন্দোলন জুলাই বিপ্লব এটা সবাই জানে। জুলাই সনদ সম্পর্কে কেউই স্পষ্ট জানত না। ওর ভিতরে কি আছে কিসের ভিত্তিতে গণভোট হবে। আমি হ্যাঁ দিব, কি না দিব, কি হবে সেটা কিন্তু মানুষ জানতো না। সেটা এখন পর্যন্ত যারা গণভোটে অংশগ্রহণ করেছে ৮০% মানুষ না জেনে অংশগ্রহণ করেছে। তারা না পড়ে অংশগ্রহণ করেছে, যে দলমতে বিশ্বাস করতো সেই দল মতের নেতারা তাদেরকে যেভাবে গাইড করছে সেভাবে তারা ভোট দিয়েছে। এটাই বাস্তবতা এটা আবেগ দিয়ে চলার কোন রাস্তা নাই।
তিনি আরো বলেন, আর আমাদের একটা শ্রেণি যারা তখন আরও ছোট ছিল দুই বছর আগে আস্তে আস্তে তারা বড় হবে তাদেরকে আমাদের টাইম টু টাইম জানাতে হবে। এনজিওদের বিভিন্ন কার্যক্রমে জুলাইকে আমরা সম্পৃক্ত করতে পারি। তোমরা সবাই জানো ৫ আগস্ট এর পরে বেশিরভাগ ব্যাংক ফাঁকা। আমি গিয়েছি বাংলাদেশ ব্যাংকে আমি জানি ব্যাংকের বাস্তব চিত্র কি ছিল। তাই দেশ সংস্কারে আমাদের সকলকে জুলাইকে ধারণ করতে হবে। জুলাই যোদ্ধার সাথে দেশের আপামর জনসাধারন জড়িত ছিলো। জুলাই কোন ব্যক্তি বা দলের নই।
প্রস্তুতিমূলক সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অপস জামাল আল নাসের, এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদ , পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক দীপক কুমার, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ, জুলাই যোদ্ধা আসলাম হোসেন অর্ক, মাহফুজুর রহমান, খুশবুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত



