প্রকৌশলীশূন্য আলমডাঙ্গা পৌরসভাকোটি টাকার উন্নয়ন কাজে পরিকল্পনার ঘাটতি, জনদুর্ভোগ বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার
উঁচু ড্রেন, পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ; জনস্বার্থে প্রশ্ন—প্রকৌশলী ছাড়াই কীভাবে চলছে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প? প্রথম শ্রেণির আলমডাঙ্গা পৌরসভায় চলমান কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাস্তা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় উন্নয়নকাজের মান ও পরিকল্পনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পৌরসভার একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে ওটএওচ প্রকল্পের আওতায় কয়েক কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান। কিন্তু এসব প্রকল্প তদারকির জন্য পৌরসভায় কোনো নির্বাহী প্রকৌশলী বা সহকারী প্রকৌশলী নেই। পুরো প্রকৌশল শাখার দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন উপসহকারী প্রকৌশলী। ফলে একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়নকাজ যথাযথ পরিকল্পনা ও কারিগরি তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব—সেই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় নির্মাণাধীন বা নবনির্মিত ড্রেনের উচ্চতা কোথাও আড়াই ফুট, কোথাও দুই ফুট, আবার কোথাও তিন ফুট পর্যন্ত রয়েছে। এতে অনেক স্থানে ড্রেনের পানির প্রবাহ স্বাভাবিক না হয়ে উল্টো রাস্তায় উঠে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার ড্রেনের মধ্যেই বিদ্যুতের খুঁটি থেকে গেছে, যা ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় জরিপ, উচ্চতা নির্ধারণ, পানি প্রবাহের দিক এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা করা হলে এমন সমস্যার সৃষ্টি হতো না। তারা মনে করেন, প্রকৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই বিভিন্ন স্থানে একই প্রকল্পে ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতার ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উন্নয়নকাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন ভবিষ্যতে নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে। এখনই যদি কাজের মান ও পরিকল্পনা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার আরও কয়েকটি রাস্তা ও অবকাঠামো প্রকল্পেও একই ধরনের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নকশা, বাস্তবায়ন ও তদারকি নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি দক্ষ প্রকৌশলীর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৌর প্রশাসক বা মেয়রের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রকৌশল বিভাগের কার্যকর উপস্থিতি না থাকলে উন্নয়নকাজের গুণগত মান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এ বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আলমডাঙ্গা পৌরসভায় দ্রুত নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীর শূন্য পদ পূরণ, চলমান উন্নয়নকাজের কারিগরি নিরীক্ষা এবং পরিকল্পনাগত ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নাগরিকরাও টেকসই ও মানসম্মত উন্নয়নের সুফল পাবেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।