চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার

স্টাফ রিপোর্টার
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ এই প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কোর্ট মোড় হয়ে পুনরায় জেলা প্রশাসন চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাক্ষরতা বলতে আমরা বুঝি লিখতে-পড়তে পারা এবং এর অর্থ বোঝার ক্ষমতা। একটি উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাক্ষরতার গুরুত্ব অপরিসীম। সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে এবং সমাজকে এগিয়ে নেওয়াই প্রকৃত সাক্ষরতার লক্ষ্য।
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। যারা এখনো শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদেরও সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে। কেউ যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের প্রতিটি জেলাকে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সচেতন জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৮ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নারীর ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ।
সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাক্ষরতা মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে, চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায় এবং অধিকার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। টেকসই সমাজ, দক্ষ মানবসম্পদ ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শারমিন সেলিনা আজহার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান,  শিক্ষার্থী মাইসা মালিহা ও তালহা জুবাইয়ের ।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।