শহীদ আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছা বিবির ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন

আলমডাঙ্গা অফিস
একজন মায়ের পরিচয় কেবল সন্তানের জন্মদাত্রীতে সীমাবদ্ধ থাকে না; অনেক সময় তিনি হয়ে ওঠেন একটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। দীর্ঘ নয় দশকের জীবন পেরিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃতীয় শহীদ আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছা বিবি। তার মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষ।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টায় আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পরিছন নেছা বিবি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি গ্রামের বাসিন্দা এবং মরহুম আইজদ্দিন মুন্সির সহধর্মিণী। তার বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামে। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার পর তিনি ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে ওঠে শহীদ আইয়ুব আলীর মা হিসেবে। ১৯৮২ সালের মার্চে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত এক সহিংস ঘটনায় প্রাণ হারান আইয়ুব আলী। এরপর থেকে এই পরিবার বহন করে আসছে এক বেদনাবিধুর ইতিহাস। সেই ইতিহাসের নীরব শক্তি ছিলেন পরিছন নেছা বিবি। ব্যক্তিগত শোককে বুকে ধারণ করেও তিনি ধৈর্য, সহনশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে অবিচল ছিলেন বলে তাকে স্মরণ করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
জানাজা পূর্ব বক্তব্যে মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, শহীদ আইয়ুব আলীর মাধ্যমে এই পরিবারের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত হয়েছেন, তারা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। তিনি বলেন, পরিছন নেছা বিবি শুধু একজন শহীদের মা ছিলেন না, বরং অনেকের কাছে তিনি মায়ের মতোই স্নেহ, মমতা ও দোয়ার আশ্রয় ছিলেন। তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করেন।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় মরহুমার ছোট ছেলে মুকুলের বক্তব্যে। তিনি জানান, মায়ের শেষ সময়ে তিনি পাশে ছিলেন। তওবা ও কালেমা পাঠের অনুরোধ করলে তার মা হাসিমুখে তা পাঠ করেন। মায়ের পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন, যদি কারও প্রতি কোনো পাওনা বা দায় থেকে থাকে, পরিবার তা পরিশোধের চেষ্টা করবে। মরহুমার ওসিয়ত অনুযায়ী বড় ছেলে সিরাজুল ইসলাম জানাজার ইমামতি করেন। জানাজা শেষে ডাউকি গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নায়েবে আমির ও দামুড়হুদা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি সাগর আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক আমির ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনোয়ারুল হক মালিক, ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ও জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, জেলা সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি ও আলমডাঙ্গা মেয়র পদপ্রার্থী শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা আইন ও আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী, গাংনী-আসমানখালী থানা আমির আব্বাস উদ্দিন, আলমডাঙ্গা পৌর আমির মাহের আলী, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগর শাখা সভাপতি ইমরান নাজির এবং সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হাফেজ নূরুজ্জামানসহ প্রমূখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।