দামুড়হুদা মডেল মসজিদে নারী জামায়াতের কর্মশালা ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

স্টাফ রিপোর্টার
দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে নারী জামায়াতে ইসলামীর দিনব্যাপী একটি কর্মশালাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের কর্মশালা আয়োজন করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেতরে অবস্থানরত নারী অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদে বের করে দেয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে ইজিবাইক ও মাইক্রোবাসে করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩/৪শ নারী কর্মী দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে আসেন। পরে সেখানে দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে এসে মসজিদে এত বড় আয়োজন দেখে বিস্মিত হন। বিষয়টি দ্রুত বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপির নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে ক্ষুব্ধ কিছু মানুষ মসজিদের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন। পরে কর্মশালায় অংশ নেওয়া নারী সদস্যদের নিরাপদে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওসি শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কর্মসূচির বিষয়ে থানা পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল কি না, সেটিও আমাদের জানা নেই। খবর পাওয়ার পর আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।
মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার মো. সাজাহান বলেন, স্থানীয় মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা নারী প্রশিক্ষণের কথা বলে এক দিনের জন্য ৩ হাজার টাকায় মসজিদের হলরুম ভাড়া নিয়েছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদ উদ দৌলা রিটন বলেন, শনিবার নারী জামায়াতের একটি দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু অভিযোগ করে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক দলের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন স্থানীয় মানুষ মেনে নিতে পারেননি। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি খারাপের আশঙ্কায় কয়েকটি মাইক্রোবাস দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী ইয়াসমিন বলেন, আমি মডেল মসজিদের সভাপতি। এত বড় একটি আয়োজনের বিষয়ে আমাকে অবহিত করা হয়নি কিংবা কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। কেন তা করা হয়নি, সে বিষয়ে মসজিদের কেয়ারটেকারকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।