রেকর্ড বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ফসলের ক্ষেত শনিবার সারাদিনে পড়েছে ছিটেফোটা বৃষ্টি  

স্টাফ রিপোর্টার
রেকর্ড বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নানান ফসলের ক্ষেত। আর সেই সাথে ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাসহ জেলার চার উপজেলার অনেক মানুষ পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট।
স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ। এরপর গতকাল শনিবার সারাদিনে ৬.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা এই বর্ষণের ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সেইসাথে অনেক এলাকা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নিচু এলাকার ধানের ক্ষেত, শরৎকালীন শাকসবজি ও মরিচ ক্ষেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত না কমলে এসব ফসল মাঠেই পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। একদিনের বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা বাজারে কাচা মরিচের আকাল দেখা দিয়েছে। কাচা মরিচের দাম হাকা হচ্ছে ২শ টাকা।
সদর উপজেলার এক ভুক্তভোগী কৃষক ফিরোজ হোসেন বলেন, হঠাৎ এত পানির কারণে মাঠের সব সবজি তলিয়ে গেছে। চারাগুলো পচে গেলে আমাদের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পথে বসতে হবে। এক বিঘা জমি মরিচ লাগিয়েছিলাম যে পরিমাণ বৃষ্টি হল তাতে করে মরিচের চারা একটাও বাঁচবে না। মাঠে এখন প্রায় হাঁটু পানি। হঠাৎ করে এত পরিমাণ বৃষ্টিপাতে আমাদের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হলো। ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক আবেদ আলী বলেন, কয়েকদিন আগে ধান লাগিয়েলাম। ধানগুলো এখনো বড় হয়নি। এর মধ্যেই যদি এমন করে বৃষ্টি হতি থাকে তাহলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা খাব কি? মাঠের যেদিকেই তাকাচ্ছি শুধু পানি আর পানি। পানি কমলি জানতি পারবো ফসল কতটুকুন ভালো আছে।  এ ছাড়াও বহু মৎস্য চাষির পুকুর ও ঘের উপচে মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃষ্টির ফলে পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত হওয়ায় এবং ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি সরতে পারছে না। অনেকের মাটির ঘর ধসে পড়েছে এবং বসতবাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ (শনিবার) ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৬. ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত এমন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সোমবারের পর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে পারে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।